
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ উন্নয়ন এবং এর অর্থায়নে সহযোগিতা করার জন্য একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ। গতকাল বৃহস্পতিবার এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় পুরোনো পারমাণবিক চুল্লিগুলোর (রিঅ্যাক্টর) কার্যকাল বাড়ানোসহ নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করা হবে।
প্যারিসে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে পারমাণবিক জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কার্যক্রমে ফিরে আসার পথ তৈরি হলো।
আইএইএ এবং বিশ্বব্যাংক এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক ক্ষেত্র সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষাব্যবস্থা, জ্বালানি পরিকল্পনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের জ্ঞান বৃদ্ধি করা।
এই দুই প্রতিষ্ঠান আরও জানিয়েছে, তারা বিদ্যমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যকাল বাড়াতেও কাজ করবে। কারণ, এগুলো কম কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুতের একটি সাশ্রয়ী উৎস। একই সঙ্গে, তারা ছোট মডুলার চুল্লির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। তারা মনে করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রচলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অজয় বাঙ্গা তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, পারমাণবিক শক্তি থেকে পাওয়া নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো, কৃষি ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং উৎপাদন খাতের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতগুলোর জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানের জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। কারখানা, হাসপাতাল, স্কুল এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও বিদ্যুৎ অপরিহার্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নয়নের সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার কারণে, রাষ্ট্রগুলোকে নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে হবে।’
বাঙ্গা আরও বলেন, ‘এ কারণেই আমরা পারমাণবিক শক্তিকে সমাধানের একটি অংশ হিসেবে দেখছি। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করার জন্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপ যে মিশ্র সমাধান দিতে পারে, তার অংশ হিসেবে এটিকে আমরা আবার গ্রহণ করছি।’
রাফায়েল গ্রোসি এই চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি ‘পারমাণবিক শক্তির বিষয়ে বিশ্বের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে আসার একটি লক্ষণ।’ এই চুক্তি অন্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য পারমাণবিক শক্তিকে জ্বালানি নিরাপত্তার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বিশ্বব্যাংক ও আইএইএয়ের মধ্যকার এই অংশীদারত্বকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি ছোট মডুলার চুল্লি প্রযুক্তির জন্য অর্থায়নের পথ খুলে দেবে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
কিছু বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংস্কার বা বন্ধ করার জন্য ঋণ দিয়েছে। কিন্তু নতুন প্রকল্প নির্মাণের অর্থায়ন কেউ করেনি। বিশ্বব্যাংক কেবল একবারই নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য ঋণ দিয়েছিল। সেটি ১৯৫৯ সালে, ইতালির প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চার কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক।
তবে, কপ ২৮ সম্মেলনে ৩০টিরও বেশি দেশ ২০৫০ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য ঘোষণা করে। এই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বব্যাংক ও অন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারমাণবিক জ্বালানি খাতে অর্থায়নের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বর্তমানে, বিশ্বের ৩১টি দেশে প্রায় ৪৪০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি চালু রয়েছে এবং আরও ৭০টি নির্মাণাধীন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, প্রায় ৩০টি দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ভাবছে বা কাজ শুরু করেছে, যার দুই-তৃতীয়াংশই উন্নয়নশীল দেশ। এসব দেশের জন্য অর্থায়ন একটি বড় বাধা।
আরও খবর পড়ুন:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) না আসায় একমাত্র রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পরিশোধনের মতো সেখানে কোনো তেল আর অবশিষ্ট নেই। রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, শুধু মেশিন ওয়ার্মআপে রাখা হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
সরকার পরিবহন খাত সামনে রেখে আসন্ন বাজেটে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহনে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন যানবাহন রাস্তায় নামাতে শুল্ক ও করকাঠামোয় সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
৫ ঘণ্টা আগে
বাজেট বাস্তবায়নের মাঝপথ পেরোতেই সরকারের ঋণনির্ভরতা পেয়েছে নতুন মাত্রা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিকে ধীরগতিতে এগোলেও রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সরকার।
৫ ঘণ্টা আগে
দেশে এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি। ইউনিট বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এর শীর্ষে রয়েছে সেবা খাত। তবে ইউনিট বৃদ্ধির তুলনায় কর্মসংস্থান বাড়েনি। দেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও তা মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সেবা খাতনির্ভর।
৫ ঘণ্টা আগে