
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি ও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিকল্প শুল্কব্যবস্থা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব এখনো কাটেনি। এই বাস্তবতায় পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। বিষয়টি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে এবং ব্যবসায়ীদের মতামত বিবেচনায় নেবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আজ বুধবার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এরপর ট্রাম্প অন্য একটি আইনে ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ বৈঠকটির আয়োজন করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা কাটেনি। বাংলাদেশ সরকারও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ পায়নি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্য করা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন, এরপর ট্রাম্প সব দেশের জন্য ওপর বিকল্প আইনে প্রথমে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন, পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইনিপ্রক্রিয়া অনুযায়ী এই শুল্ক ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। ফলে ঘোষণাগুলো কার্যকর হবে কি না, হলে কোন কাঠামোয় হবে—এসব বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমরা গণমাধ্যমে যা দেখছি, সেটুকুই জানি। সরকারি কাগজপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এর পক্ষে ও বিপক্ষে কী কী দিক রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি চুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুটি দিক থাকা স্বাভাবিক।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আলোচনার সময় কিছু গোপনীয়তা চুক্তি (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট) ছিল এবং বিষয়টিতে স্পর্শকাতর উপাদান জড়িত কি-না, সেটি দেখার বিষয় রয়েছে। তা ছাড়া যে দেশের সঙ্গে চুক্তি, সেই দেশ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অংশীদার। তাই চলমান পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে এবং সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
শুল্ক ও চুক্তির প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাত কী ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কোথায় সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে থাকা আমদানি পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মৌসুমি চাহিদা ও একসঙ্গে বেশি কেনাকাটার প্রবণতায় কিছু সবজির দাম সাময়িক বেড়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, রোজার শুরুতে লেবুর দাম ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় উঠেছিল, তবে পরে তা আবার কমেছে।
চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। অপেক্ষা করুন, আমরা কাজ করে দেখাব।’
আরও পড়ুন:

গ্যাস-সংকটের কারণে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানাকে বয়লার ও জেনারেটর সচল রাখতে ডিজেলসহ অন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে উৎপাদনের পরিমাণ।
১ ঘণ্টা আগে
পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পেয়েছে বাংলালিংকের শতভাগ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘নিও পিএসপি লিমিটেড’। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অভ্যন্তরে অনুমোদিতভাবে পরিশোধ সেবা দিতে পারবে। বাংলালিংক ‘মুক্ত পে’ ব্র্যান্ডের অধীনে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু করবে।
৫ ঘণ্টা আগে
খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশ খানিকটা কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। গত জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত জুনে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
৫ ঘণ্টা আগে
দেশে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এই ঋণপ্রাপ্তিতে লাগবে না কোনো জামানত। পাশাপাশি যথা সময়ে ঋণ পরিশোধের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে