দেশের আমদানি বাজারে গতি ফিরছে—কিন্তু সেই গতি এখনো বিনিয়োগে পৌঁছায়নি। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। অথচ এলসির বিপরীতে পণ্য এনে মূল্য পরিশোধের প্রবৃদ্ধি থেমেছে প্রায় শূন্যে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিল্পের ভবিষ্যৎ সক্ষমতার প্রধান দুই সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের আমদানি—দুটিই কমেছে। ফলে আমদানি বাড়ার সাম্প্রতিক চিত্র অর্থনীতিতে চাহিদা ফেরার ইঙ্গিত দিলেও তা বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের বার্তা দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত অর্থবছরে নতুন আমদানি এলসি খোলা হয়েছে ৭ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরে ছিল ৬ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে ভবিষ্যৎ আমদানির অঙ্গীকার। কিন্তু সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যায়নি বাস্তব আমদানিতে। এলসির বিপরীতে গত অর্থবছরে আমদানি দায় পরিশোধ হয়েছে ৭ হাজার ৪০ কোটি ডলার; যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ হাজার ৩০ কোটি। ব্যবধান মাত্র ১০ কোটি ডলার। ফলে আমদানি দায় পরিশোধে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ০.১৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই ব্যবধানই গুরুত্বপূর্ণ। এলসি খোলা মানে তাৎক্ষণিক আমদানি নয়। অর্ডার, উৎপাদন, জাহাজীকরণ, দেশে পণ্য পৌঁছানো এবং ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ—পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তাই এলসি বৃদ্ধিকে ভবিষ্যৎ আমদানির সম্ভাব্য সংকেত বলা যায়; কিন্তু সেটিকে সরাসরি বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগের সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে। গত অর্থবছরে এ খাতে আমদানি দায় পরিশোধ কমেছে ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে। নতুন কারখানা, উৎপাদন লাইন, বিদ্যুৎ, নির্মাণ, পোশাক, বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে সক্ষমতা বাড়াতে এসব যন্ত্রপাতিই প্রয়োজন।
শুধু যন্ত্রপাতি নয়, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও দুর্বল। গত অর্থবছরে এই খাতে আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৮ কোটি ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ বিদ্যমান শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গতি খুব জোরালো নয়। বিপরীতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এতে সামগ্রিক আমদানির প্রবৃদ্ধি কতটা উৎপাদনশীল খাত থেকে এসেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য আমদানি প্রায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি হয়েছিল। এপ্রিলেও আমদানি ছিল সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। কিন্তু মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের দুর্বলতা দেখাচ্ছে, এই গতি এখনো বিনিয়োগনির্ভর নয়।
উদ্যোক্তাদের সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে আছে উচ্চ সুদহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটও সাম্প্রতিক সময়ে যন্ত্রপাতি আমদানিতে চাপ তৈরি করেছিল। ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরলেও বিনিয়োগের অন্য ঝুঁকিগুলো এখনো কাটেনি।
এ প্রসঙ্গে দেশে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজকের পত্রিকাকে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও গ্যাস-বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার এখনো বড় বাধা। এসব সমস্যা দূর না হলে নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ফিরবে না।
এই চিত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও আছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কম থাকলে নতুন কারখানা ও উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের গতি কমে, প্রযুক্তি আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়। উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়লে রপ্তানি বহুমুখীকরণও কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরানো, বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং মূলধনি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব না হলে আমদানি বাড়লেও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।
ড. মুস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, এখন অর্থনীতির জন্য আমদানির পরিমাণের চেয়ে কী আমদানি হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়লে স্বল্প মেয়াদে বাজারে কার্যক্রম বাড়তে পারে। কিন্তু মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের প্রবাহ না বাড়লে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে না। এর প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতার ওপরও।
আগামী মাসগুলোতে তাই বেসরকারি বিনিয়োগের ঋণপ্রবাহ এবং নতুন শিল্প প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এসব সূচকে গতি ফিরছে কি না, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কতটা শক্ত ভিত্তি পাচ্ছে।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ দ্রুত নগদ অর্থের বিকল্প হয়ে উঠছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে একক কিউআর ব্যবস্থায় আসার পর ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা একই কিউআর দিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
১ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের ঋণ পরিশোধ করেছে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আবদুর রহমানের অভোগ কর অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিত করে তিন বছরের জন্য তাঁকে ওই পদে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাজ শুরু করেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে