ভোজ্যতেল

বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই—বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমন বক্তব্য দিলেও রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদামতো তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতল থাকলেও কোনো কোনো দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। আর পাঁচ লিটারের তেলের বোতল প্রায় নেই বললেই চলে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের আগেও ডিলার বা কোম্পানির প্রতিনিধিরা তেলের বোতল সরবরাহ দিয়ে পরে টাকা নিয়ে যেত। কিন্তু এখন নগদ টাকা দিয়েও তাদের কাছ থেকে তেলের বোতল মিলছে না। তবে খোলা তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানীর খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, মানিকনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে ভোজ্যতেল একেবারেই নেই। কিছু দোকানে অল্প কিছু এক ও দুই লিটারের বোতল রয়েছে। পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যায়নি বেশির ভাগ দোকানে। একই অবস্থা সুপারশপগুলোতেও।
সেগুনবাগিচা বাজারের মুদিদোকানি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ডিলারদেরকে নগদ টাকা দিতে চাইছি তেলের জন্য। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। কোনো ব্র্যান্ডেরই পাওয়া যাচ্ছে না। দুই-এক দিন পরপর ডিলার প্রতিনিধি আসেন কয়েক কার্টন তেল নিয়ে। সেগুলো দুই-একটি দোকানে দিয়েই চলে যান। খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছি। ক্রেতাকে কী দিয়ে বোঝাব আমরা, যে কোম্পানি সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে।’
খিলগাঁও বাজারের ফাতেমা স্টোরের বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমার সারা দিনে তেলের যা চাহিদা থাকে তার তুলনায় মাত্র এক ঘণ্টা বিক্রি করার মতো তেল দিয়ে গেছে কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এখন যদি আমি শুধু তেল বিক্রি করে দিই, আমার নিয়মিত কাস্টমার, যাঁরা অন্যান্য পণ্যও নিচ্ছেন তাঁদের আমি কী দেব?’
রাজধানীর বিভিন্ন চেইন শপগুলোতে লেখা রয়েছে ‘স্টক সীমিত’। একজন ক্রেতা মাত্র এক বোতল তেল কিনতে পারছেন সেখানে।
এক লিটারের সয়াবিন তেলের দাম বোতলের গায়ে লেখা আছে ব্রান্ডভেদে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর পাঁচ লিটারের দাম ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকা। কিন্তু বাজারে লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন মানিকনগর বাজারের হাজি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাব্বি।
তবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক সপ্তাহে পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের সর্বনিম্ন দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৫০–৯৫৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৭ থেকে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৮৫-১৯৩ টাকা দরে। অন্যদিকে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ১৩ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৬৩-১৬৮ টাকা দরে।
সরকারের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পর্যালোচনায় বৈঠক হয় ৯ মার্চ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) ওই বৈঠকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম পরিস্থিতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে। এতে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ঘাটতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে বলে তাঁরা সরকারের কাছে দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। সে হিসাবে প্রতিদিন ৭ হাজার টন তেলের চাহিদা থাকলেও রমজান ও ঈদে এই চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়। কারখানাগুলো প্রতিদিন ৯ হাজার ৮৮ টন করে ভোজ্যতেল বাজারে ছাড়ছে এবং ৯ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে সরবরাহ করেছে ৫৭ হাজার ৬৪৪ টন।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গত রোববার এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোথাও কোথাও খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হতে পারে, সেটি সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালংকার ও রৌপলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
৩২ মিনিট আগে
তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিনটিসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি সার কারখানাই বন্ধ রয়েছে। শুধু একটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এতে সামনের আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সেখান থেকে সার...
১০ ঘণ্টা আগে
বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, একচেটিয়া ব্যবসা ও যোগসাজশ ঠেকানো এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের (বিসিসি)। অথচ সেই কমিশনেরই গত দুই অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
১১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড কমেনি। বরং জুন শেষে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। কোনো কোনো বিদেশি ব্যাংকে এ ব্যবধান ৮ শতাংশের বেশি।
১১ ঘণ্টা আগে