Ajker Patrika

সাগর থেকে জ্বালানি খালাস: এসপিএম পরিচালনায় আগ্রহী তিন প্রতিষ্ঠান

  • নির্মাণ শেষে চালুর অপেক্ষায় দীর্ঘ তিন বছর
  • ২০২৩ সালের জুলাইতে পরীক্ষামূলক তেল খালাস করা হয়েছিল
  • রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে দরপত্রপ্রক্রিয়া শুরু
ফয়সাল আতিক, ঢাকা
সাগর থেকে জ্বালানি খালাস: এসপিএম পরিচালনায় আগ্রহী তিন প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

মহেশখালীর উপকূলে জ্বালানি তেল খালাসের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন (এসপিএম) বা ভাসমান জেটি পরিচালনার ঠিকাদার নিয়োগে এবার কিছু অগ্রগতি হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষের দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর নতুন দরপত্রে তিন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ পেয়েছে সরকার। তা-ও সব প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ ও এসপিএম চালু করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সমুদ্রগামী বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনে জ্বালানি তেল খালাসের ব্যবস্থা এসপিএম প্রস্তুত হয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেল আসা শুরু হয় পরের বছর মার্চে। তখন থেকেই এসপিএম পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে দোলাচলে ছিল সরকার। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত রেখেই প্রকল্প হস্তান্তর করে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিপিপিইসি)।

গভীর সমুদ্রে থাকা বড় জাহাজ থেকে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল নিরাপদে এবং স্বল্প খরচে দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। এখনো সনাতন পদ্ধতিতে ছোট ট্যাংকারে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে; যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্যাংকার ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ থেকে তেল খালাসের সময় বিস্ফোরণ ঘটে তিনজন পুড়ে মারা যায়।

ব্যয়বহুল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই সুফল না আসায় এসপিএম নিয়ে হতাশার সৃষ্টি হয়। শুরুর দিকে প্রকল্পটির নির্ধারিত ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি থাকলেও পরে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

জাহাজ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রচলিত পদ্ধতির ৮-১০ দিনের পরিবর্তে এসপিএমের সাহায্যে মাত্র দুই দিনে এবং ৬০-৭০ হাজার টন ডিজেল ২৮ ঘণ্টায় খালাস করা যাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বুধবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সর্বশেষ দরপত্রে তিনটি কোম্পানির আগ্রহপত্র পেয়েছি। সেগুলো মূল্যায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি মাসের শেষ দিকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে একটি কোম্পানি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসপিএম অপারেটর হিসেবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ চূড়ান্ত করা যাবে বলে আশা করি।’

বিপিসির একজন কর্মকর্তা জানান, আগ্রহ প্রকাশ করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চীনের চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিপিপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার পার্টামিনা নামের দুটি কোম্পানি রয়েছে। অন্য কোম্পানিটি একটি ইউরোপীয় দেশের। ওই কর্মকর্তা বলেন, অপারেটর নিয়োগের আইনিপ্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে সব কাজ শেষে তাদের মাধ্যমে তেল খালাস শুরু হতে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

অলস তিনটি বছর

২০২৩ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরব থেকে আসা ‘এমটি হোরা’ জাহাজ থেকে ৮২ হাজার টন ক্রুড অয়েল খালাস দিয়ে প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কমিশনিং (কাজ শুরু) করেছিল নির্মাণকারী ঠিকাদার সিপিপিইসি। ২০২৪ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে মহেশখালী থেকে তেল আসে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই প্রকল্পটি চালিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও সব মিলিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ওই বছর জুনে মেয়াদ শেষে পরিচালনার দায়িত্ব বিপিসির কাছে ছেড়ে দেয় সিপিপিইসি।

বিপিসির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলের বিদ্যুৎ জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইনের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠানকে অপারেটর হিসেবে বেছে নেওয়ার পর্যায়ে ছিল বিপিসি। কিন্তু চব্বিশের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে লীগ সরকারের পতন হওয়ার ধারাবাহিকতায় সে প্রক্রিয়াও থেমে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৩০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু আগ্রহী ঠিকাদারের সংখ্যা কম থাকায় সেপ্টেম্বরে তা বাতিল হয়ে যায়। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া আরেকটি দরপত্রের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।

এসপিএম প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে উপকূল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসমান মুরিং (বিশেষ ধরনের বয়া) বসানো হয়েছে। সেখান থেকে সাগরের তলা দিয়ে মহেশখালী স্টোরেজ ট্যাংক হয়ে পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত ১১০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পে আরও রয়েছে পাম্পিং স্টেশন, তিনটি করে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ট্যাংক, বুস্টার পাম্প, জেনারেটর ইত্যাদি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত