নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া আরও কিছু কর-শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ মানুষের পকেটের চাপ কমাতে কতটা সহায়ক হবে, তা নির্ভর করবে বাজার তদারকির ওপর।
কর কমানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি কিছু পণ্যে শুল্ক-কর বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে; যা পকেটের ওজন কমাবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখা অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল সেবা খাতে বিভিন্ন কর ও শুল্কছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, সরবরাহ পর্যায়ে করের চাপ কমলে বাজারে এসব পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
অবশ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে বাজেটের আসল পরীক্ষা হবে বাস্তবায়নে। করছাড়ের প্রকৃত সুফল তখনই ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে, যখন বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ শৃঙ্খল কার্যকর থাকবে। বাজারে এর প্রভাব দেখতে হলে সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, কর কমানো ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু দেশের বাজারে অনেক সময় করছাড়ের পুরো সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছায় না। এ জন্য বাজার তদারকি ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান স্বস্তির বার্তা এসেছে কিডনি ও হৃদ্রোগীদের জন্য। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, ব্লাড টিউবিং সেট, হার্টের স্টেন্ট এবং চোখের ইনট্রাওকুলার লেন্সে ভ্যাট ও করছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রতিটি ডায়ালাইসিসের খরচ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ে বিপর্যস্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক আমানতকারীদের জন্যও কিছু স্বস্তি রয়েছে। ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা কিছুটা সুবিধা পাবেন।
মোবাইলের সিম কার্ডের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। ফলে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে; যা শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি এম রাশিদুল হাসান বলেন, প্রযুক্তিপণ্যের ওপর কর কমানোর কারণে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করবে। এতে কম্পিউটার ও প্রযুক্তিসেবা আরও বেশি মানুষের নাগালে আসবে।
স্বস্তিদায়ক এসব করছাড়ের বিপরীতে কিছু পণ্যে শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে বাজেটে। ওয়াশিং মেশিন, ট্রান্সফরমার, কপার টিউব, কাগজ, বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ, মেইজ স্টার্চসহ কিছু পণ্যে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার জন্য আমদানিতে শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে। এ ছাড়া করভিত্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগে নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একাংশের ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নার’ হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে—এক ট্রিলিয়ন ডলার আসলে কত বড় অঙ্কের টাকা? বা এই অর্থ দিয়ে কী করা সম্ভব...
৩ ঘণ্টা আগে
এই রেকর্ড লিস্টিংয়ের হাত ধরে স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক) হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন...
৩ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দেশে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, যা মূলত পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ছিল। কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থেকে গেছে। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল সমাজের...
৫ ঘণ্টা আগে
এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ এবং জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ। এটি স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ। এবার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পুষ্টি, অসংক্রামক ও ব্যয়বহুল রোগ প্রতিরোধে সরকার কিছু ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
৯ ঘণ্টা আগে