
করোনাকালে কঠোর বিধিনিষেধের সময় ঢাকা শহরের পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র দোকান শ্রমিকদের ৮৭ শতাংশই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর অনেকে কাজ পেলেও ৭ শতাংশ এখনো বেকার। আর যারা কাজ পেয়েছেন তাঁদের আয় কমেছে ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস্) ‘ঢাকা শহরের পরিবহন, দোকান-পাট এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের ওপর সাম্প্রতিক লকডাউনের প্রভাব নিরূপণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলস্ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।
২০২১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার ৪০০ শ্রমিকের ওপর গবেষণা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেখেছে, উল্লেখিত তিন খাতের শ্রমিকের আয় কমেছিল ৮১ শতাংশ। করোনার বিধিনিষেধ আরোপের আগে এই তিন খাতের শ্রমিকদের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১৩ হাজার ৫৭৮ টাকা। বিধিনিষেধের সময় আয় নেমে আসে ২ হাজার ৫২৪ টাকা। তবে পরবর্তীতে আয় দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫২৯ টাকা। অর্থাৎ বিধিনিষেধ পরবর্তী সময়েও ৮ শতাংশ আয়ের ঘাটতি থাকছে।
করোনা বিধিনিষেধের সময় চাকরি হারিয়েছেন ৮৭ শতাংশ শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পরিবহন খাতের শ্রমিক। এ খাতের ৯৫ শতাংশ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। এ ছাড়া দোকান শ্রমিকদের ৮৩ শতাংশ এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের ৮২ শতাংশ কর্মসংস্থান হারান। লকডাউন পরবর্তী সময়ে ৯৩ শতাংশ শ্রমিক চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন, অর্থাৎ ৭ শতাংশ শ্রমিক এখনো বেকার। অবশ্য লকডাউন সময়ে এসব খাতে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান বেড়েছিল ২১৫ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, লকডাউনে তিনটি খাতে কার্যদিবস কমেছিল ৭৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ৯২ শতাংশ কার্যদিবস কমেছে পরিবহন খাতে। লকডাউন পরবর্তী সময়ে অবশ্য কাজের চাপ বেড়েছে, কার্যদিবস এবং কর্মঘণ্টা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে।
নিয়মিত চাকরি হারানো অথবা উপার্জন কমে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের পরিবারে আয় এবং ব্যয়ের ঘাটতি ছিল বিস্তর। আয় কমে দাঁড়িয়েছিল ব্যয়ের প্রায় ২৩ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঘাটতি, ৯৭ শতাংশ পরিবহন খাতের এবং সর্বনিম্ন ৪৬ শতাংশ ছিল খুচরা বিক্রেতা খাতের শ্রমিক পরিবারের। এই ঘাটতি মেটাতে ২০ শতাংশ শ্রমিক সম্পত্তি বিক্রয়, খাবার কমিয়ে দেওয়া এবং সন্তানদের কাজে পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া ৮০ শতাংশ শ্রমিক পরিবার ধারদেনা করে এবং সঞ্চয় কমিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেছেন। লকডাউন পরবর্তী সময়ে সঞ্চয় কমেছে ৬৪ শতাংশ এবং সঞ্চয়কারীর সংখ্যা কমেছে ৫০ শতাংশ।
অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার নানা খাতে প্রচুর প্রণোদনা দিলেও লকডাউনের সময় এই তিন খাতের শ্রমিকদের ১ শতাংশেরও নিচে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে কম মূল্যে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ টাকা।
গবেষণা অনুযায়ী, ৩৬ শতাংশ শ্রমিক কোভিডের টিকা নিয়েছেন এবং ৬৪ শতাংশ শ্রমিক এখনো টিকার আওতার বাইরে রয়েছেন।
এ সময় বেসরকারি খাতে কর্মরত শ্রমিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেইস প্রণয়ন, পরিচয়পত্র দেওয়া এবং শ্রমিকদের কোভিড টিকা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিলস্ ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ এবং নাজমা ইয়াসমীন প্রমুখ।

দেশের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি ব্র্যান্ড ওমেরা এলপিজি তাদের ব্যতিক্রমী রিটেইলার এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন ‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই’–এর গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট ২০২৬ আয়োজন করেছে। রিটেইলারদের সৃজনশীলতা ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় এ ক্যাম্পেইন।
৯ ঘণ্টা আগে
এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ও চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. শাহিন হাওলাদার। এর আগে তিনি এনআরবি ব্যাংক পিএলসিতে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (বিজনেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় ইউনিট মূল্য ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণও কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে শুধু অর্ডার কমেনি, কম দামে...
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ৯২১ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। গ্যাস অনুসন্ধান, অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস, বন্দর, শিক্ষা, ওষুধ ও উৎপাদন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে এসব বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
১০ ঘণ্টা আগে