Ajker Patrika

তিন বছর পিছিয়ে দেশের পুঁজিবাজার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
তিন বছর পিছিয়ে দেশের পুঁজিবাজার
রাজধানীর বনানীতে গতকাল ‘নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি ও পুঁজিবাজার’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

উন্নয়ন বিবেচনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো আঞ্চলিক প্রতিযোগী পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় দুই থেকে তিন বছর বা তারও বেশি সময় পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি ও পুঁজিবাজার’ শীর্ষক সেমিনারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই দৃষ্টিকোণ প্রকাশ পায়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। প্যানেল আলোচনার সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের পরিচালক ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সুইডেনভিত্তিক টুন্ড্রা ফন্ডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার ম্যাটিয়াস মার্টিনসন বলেন, ‘উন্নয়ন বিবেচনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। লেনদেনের পরিমাণ গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম, পিই রেশিও নিম্নমুখী। মানসম্মত কোম্পানি কম থাকায় বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। বাজারে উন্নতি আনার প্রথম ধাপ হতে পারে আরও ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তি এবং স্বচ্ছ, বিনিয়োগবান্ধব নীতিকাঠামো গড়ে তোলা।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কনটেক্সচুয়াল ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকাও হিরোসে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ও পরে সাধারণত পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। সবকিছু স্থিতিশীল হলে আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রবেশ করব।’

অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত। নিয়মকানুন বেশি, নীতিতেও বিকৃতি রয়েছে। মুক্তবাজারের সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক। আমাদের বাজারকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। বিদেশিরা আসছে, কিন্তু তারা বিনিয়োগ শুরু করবে নির্বাচনের পর।’

মূল প্রবন্ধে র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার সংস্কারে গতি আনতে পারলে বেসরকারি খাতের আস্থা বাড়বে। পরবর্তী সরকারের প্রথম কাজ হবে—স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সংস্কারের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া।’

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘সুদ, বৈদেশিক মুদ্রা, পণ্য ও পুঁজিবাজারের মধ্যে আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে পুঁজিবাজারে। এখানেই মনোযোগ বাড়াতে হবে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে।’

বিএসইসি কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ‘মূল্যনির্ধারণ সম্পূর্ণ বাজারনির্ভর হওয়া উচিত। আইপিও বা নিলামে অংশগ্রহণকারীরাই কোম্পানির শেয়ারের দাম নির্ধারণ করবে। বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছ তথ্যের মাধ্যমে মান ঠিক করবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার, নৈতিক শাসন এবং মানবকল্যাণের ওপর বিশ্বাস করি। তবে এর মানে এই নয় যে হঠাৎ বা বিশৃঙ্খলভাবে অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মতভাবে এগোনোই সঠিক পথ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত