Ajker Patrika

গ্যাস-সংকট: বন্ধ সিইউএফএল-কাফকো, শঙ্কায় ডিএপিএফসিএলও

  • ৪ মার্চ থেকে বন্ধ সিইউএফএল ও কাফকো কারখানা।
  • গ্যাসের চাপ কমায় কারিগরি ও নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত।
  • এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হবে ডিএপিএফসিএলের উৎপাদনও।
  • কারখানাটিতে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন সার উৎপাদিত হচ্ছে।
আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 
গ্যাস-সংকট: বন্ধ সিইউএফএল-কাফকো, শঙ্কায় ডিএপিএফসিএলও
চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গ্যাস-সংকটে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানা—চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) উৎপাদন। কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে; একই সঙ্গে এই দুই কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাসনির্ভর ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডও (ডিএপিএফসিএল) বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।

কারখানা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সিইউএফএল ও কাফকো সার কারখানা থেকে পাওয়া অ্যামোনিয়ার মাধ্যমে ডিএপিএফসিএল কারখানাটি উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে ওই কারখানা দুটি থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল না পাওয়ায় বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল। কারখানাটির কাঁচামাল যা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবে। এরপর এটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএপিএফসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) আলমগীর জলিল বলেন, ‘আমাদের কারখানাটি মূলত চলে সিইউএফএল বা কাফকো থেকে সরবরাহ করা অ্যামোনিয়া থেকে। এই দুটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অ্যামোনিয়ার মজুত ফুরিয়ে আসছে। আর সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ চলতে পারে। এরপরই বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও জানান, প্রতিদিন এই কারখানা থেকে ৫০০ টন ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ড্যাপ) সার উৎপাদিত হয়।

আলমগীর জানান, সিইউএফএল ও কাফকো চালু করে দ্রুত অ্যামোনিয়া সরবরাহ করতে না পারলে এই কারখানার উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে না। বর্তমানে শুধু মজুত থাকা অ্যামোনিয়া দিয়ে সীমিত পরিসরে কাজ চালানো হচ্ছে।

দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের চাহিদা পূরণ এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ যৌগিক সারের জোগান নিশ্চিত করতে বিসিআইসির অধীনে রাঙ্গাদিয়ায় ডিএপিএফসিএল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া এই কারখানায় দুটি ইউনিটের মাধ্যমে দৈনিক ৮০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে এখানে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন সার উৎপাদিত হচ্ছে।

অ্যামোনিয়া সংকটের কারণ

ডিএপিএফসিএলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাঁচামাল বা অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য পাশের দুই বৃহৎ কারখানা সিইউএফএল ও কাফকোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে ওই দুটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু মজুত থাকা অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও তা ফুরিয়ে এলে যেকোনো মুহূর্তে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডিএপিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, ড্যাপ সার উৎপাদনে অন্যান্য ইউরিয়া কারখানার মতো প্রচুর গ্যাসের প্রয়োজন হয় না। এমনকি আবাসিক লাইনের মতো স্বল্প গ্যাসের চাপ দিয়েও এই কারখানা চালানো সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া নিয়ে। তিনি বলেন, ‘সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া না পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহ থেকে আমাদের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হতে পারে।’

উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস-সংকটের কারণে আগেই সিইউএফএল ও কাফকো কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কারিগরি ও নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ এই উৎপাদন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

কাফকোর জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘৪ মার্চ থেকে গ্যাস-সংকটের কারণে কাফকো বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার কখন গ্যাস দেবে, তা বলা যাচ্ছে না। তাই আমাদের সার ও অ্যামানিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।’

সিইউএফএলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে সিইউএফএল দৈনিক ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। অন্যদিকে, কাফকোর দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ২ হাজার টন ইউরিয়া এবং ১ হাজার ৫০০ টন অ্যামোনিয়া। এই দুটি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে ডিএপিএফসিএলও এখন চূড়ান্ত উৎপাদন সংকটের মুখে পড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মঙ্গলবারের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার শোরুম অপসারণের নির্দেশ

কেন ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদ সংলাপ, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কে কী চায়

পুনর্বহালের এক মাস পর পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন কোহিনূর মিয়া

নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসব, সুযোগ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইসলামাবাদ আলোচনা, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত