Ajker Patrika

মমতার ভাতিজা অভিষেককে চড়-থাপ্পড়, ডিম-পাথর নিক্ষেপ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১৯: ৩৩
মমতার ভাতিজা অভিষেককে চড়-থাপ্পড়, ডিম-পাথর নিক্ষেপ
নিরাপত্তাকর্মীরা মাথায় হেলমেট পরিয়ে অভিষেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) শীর্ষ নেতা ও লোকসভার সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে তাঁর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তেজিত জনতা ও বিজেপি কর্মীরা অভিষেককে লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা মাথায় হেলমেট পরিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজাকে উদ্ধার করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা অভিষেককে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় মারছে। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মানবঢাল তৈরি করে সরিয়ে নিয়ে যান।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিজেপির দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায় করা একটি পরিকল্পিত হামলা। দেখুন, ওরা কী করেছে! এটাই কি ওদের গণতন্ত্রের নমুনা? রাজ্যে নতুন সরকার আসার এক মাসও হয়নি, অথচ এর মধ্যেই পুলিশকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।’

নিজের জীবননাশের শঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা বলেন, ‘ওরা আমাকে খুন করতে চেয়েছিল। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আমরা অবশ্যই বিষয়টি উচ্চ আদালত ও রাজ্যপালকে জানাব। আমি নিজে আদালতের দ্বারস্থ হব।’

গুরুতর আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মীরা সময়মতো হেলমেট পরিয়ে দেওয়ায় আমার মাথাটা কোনোমতে বেঁচে গেছে। তবে হামলাকারীরা আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেছে এবং চোখের চশমা ভেঙে দিয়েছে।’

ঘটনাস্থলে পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, ‘এখানে কোনো পুলিশ ছিল না। ওরা আমাদের মেরে ফেলতে চায়, মারুক। এখান থেকে আমার লাশ উদ্ধার হতে পারে, কিন্তু আমি এই এলাকা ছেড়ে পালাব না।’ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে বের হবেন না জানিয়ে বলেন, ‘ওরা বাড়িটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে এবং আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি এই বৃদ্ধ মা-বাবাকে এই অবস্থায় ফেলে যাব না।’

অভিষেক আরও দাবি করেন, এখানে আসার আগে থেকেই পুলিশকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিপদের সময় ফোন করা হলেও পুলিশ ফোন তোলেনি।

অভিষেকের ওপর এই হামলার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘লোকসভার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলের নেতা বিজেপির সহিংসতায় নিহত এক ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিজেপি সমর্থকদের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। তাঁর জীবন এখন ঝুঁকিতে। পুলিশ কোথায়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর জবাব দিতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত