কক্সবাজারের সঙ্গে এবার মিতালি হলো রেলপথের। চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে বহুমাত্রিক সম্ভাবনার দ্বার। যোগাযোগ, শিল্পায়ন, পর্যটন, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রেলগাড়ি ছুটবে এ পথ ধরে। সব মিলিয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতিতে আনবে নতুন প্রাণ। কক্সবাজার হয়ে উঠবে দেশের অর্থনীতির নতুন দুয়ার।
কক্সবাজারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সব অনুষঙ্গ বিদ্যমান। আছে পর্যটন থেকে শুরু করে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনালের মতো বিনিয়োগ আকর্ষণযোগ্য বড় বড় প্রকল্প। এসব প্রকল্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে যোগ হলো দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথটি। ফলে পর্যটনের পাশাপাশি লবণ, কৃষি, আবাসন ও চিংড়ি শিল্পে নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হলো। ঘুরে যাবে এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। ত্বরান্বিত হবে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি।
১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথের ছোঁয়ায় সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারাসহ আশপাশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ মোট ৯টি স্টেশনের মাধ্যমে রেলপথে সংযুক্ত হবে এলাকাগুলো।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়কে সামনে রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
এই রেলপথ চালুর ফলে কক্সবাজারের উৎপাদিত পণ্য যেমন সহজে সারা দেশে নেওয়া যাবে, তেমনি সারা দেশ থেকে পণ্য কক্সবাজারে সাশ্রয়ীভাবে আনা যাবে। এতে উৎপাদকদের পাশাপাশি ক্রেতারাও হবেন লাভবান। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, রেল চালুর কারণে পচনশীল পণ্য পরিবহনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পণ্য পরিবহনব্যবস্থা চালু করা যাবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে সহজে এবং কম খরচে কনটেইনার আনা-নেওয়া করা যাবে। সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, সুপারি, শুঁটকি, পান ও রাবারের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন বনজ ও কৃষিজ পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে এ রেলপথে। কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও গতি আনতে পারে পথটি। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে কক্সবাজারে। গতি পাবে অর্থনীতি। নানা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
এই অঞ্চলের বেকারত্ব সামাল দেওয়া যাবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি চট্টগ্রাম চেপ্টারের সাবেক এই সভাপতি বলেন, রেলপথে সংযুক্ত হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে উৎপাদনশীলতা উৎসাহিত হবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাস্তাঘাটের সুবিধা তো সরকার নেবে না, নেবে দেশের জনগণ। এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম-শহর উন্নয়নে একাকার হবে।
তথ্যমতে, ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩০ জুন। পরে এক দফা বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ করা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এতে ব্যয় বেড়ে হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে ঋণসহায়তা দেয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকল্পটি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
রেলপথটি নির্মিত হওয়ায় মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের করিডোরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। কক্সবাজার পরিণত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের তীর্থ স্থান। কক্সবাজারে যেতে এখনো পর্যটকদের প্রধান ভরসা সড়কপথ। আকাশপথে আসা পর্যটকের সংখ্যা সীমিত। পর্যটন অর্থনীতি চাঙা থাকে মূলত শুষ্ক মৌসুমে। রেল যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার ফলে সারা বছর পর্যটক পাওয়ার আশা করছেন হোটেল-মোটেলের উদ্যোক্তারা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রকৃত অর্থেই সারা বছর চাঙা থাকবে পর্যটন অর্থনীতি। রেলব্যবস্থা পুরোদমে চালু হলে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি পর্যটক কক্সবাজারে ভিড় জমাবে। সেসব পর্যটকের মধ্যে স্থানীয় থাকবেন ১৭ শতাংশ। এই অগ্রগতির ঢেউ এসে পড়বে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সার্বিক অর্থনীতির গতিধারায়। কারণ এই রেলপথ চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। স্থানীয়দের মধ্যেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানালেন কক্সবাজার সদরের রুমালিয়ার ছড়া এলাকার বাসিন্দা চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের মাধ্যমে রেলপথে ১৫ শতাংশ পণ্য পরিবহন বাড়ানো যাবে। লবণ, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ, সুপারি ও পানের বড় আধার হচ্ছে কক্সবাজার। ট্রাকে করে এসব পণ্য পরিবহনে খরচ যেমন বাড়ে সময়ও বেশি লাগে। এতে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রেলে পরিবহনে খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এন এম মইনুল ইসলাম বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের মতো বড় প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাব বহুমাত্রিক ও সুদূরপ্রসারী। রেলপথে যোগাযোগ নিশ্চিত করার ফলে এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশের পুঁজিবাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে বন্ড ছাড়ছে পাঁচটি ব্যাংক। নিজেদের মূলধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এ অর্থ সংগ্রহ করবে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে চার ব্যাংক বন্ডের অর্থ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করবে।
৪ ঘণ্টা আগে
ব্যবসার ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দেখাতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে কার্যকর হওয়া এ শর্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তারা।
৪ ঘণ্টা আগে
শরিয়াহসম্মত উপায়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে ইসলামি ক্রেডিট কার্ড (আইসিসি) পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশে আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামি ক্রেডিট কার্ড থাকলেও এবারই প্রথম এ ধরনের কার্ড পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামো দেওয়া হলো।
৯ ঘণ্টা আগে
টেকসই শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
৯ ঘণ্টা আগে