Ajker Patrika

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ‘রাতের আঁধারে’ বিদ্যালয়ের দোকান দখলের অভিযোগ

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি 
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ‘রাতের আঁধারে’ বিদ্যালয়ের দোকান দখলের অভিযোগ
দখল হওয়া দোকানের তালা ভাঙছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্মাণ করা দোকানঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। দোকানগুলো দখল করে যথারীতি তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত ওই যুবদল নেতার নাম মোজাম্মেল হক। তিনি উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক।

আজ রোববার বেলা ১১টায় এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন করেছে সীমান্ত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রত্নাই বগুলাবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আমজানখোর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশে দখল হওয়া দোকানগুলোর সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দাবি করে, বিদ্যালয়ের নির্মাণ করা তিনটি পাকা দোকানঘরে রাতের আঁধারে টিন ও সাটারিং লাগিয়ে দখল করেছেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করার পরেও সমাধান না পেয়ে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নামে জমির মালিকানা-সম্পর্কিত সব কাগজপত্র রয়েছে। আমরাই পাকা ঘরগুলো নির্মাণ করেছি ভাড়া দেওয়ার জন্য। কয়েক দিন আগে প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়ায় ভাড়া দিতে একটু বিলম্ব হয়েছে। এই সুযোগে যুবদল নেতা মোজাম্মেল জমির মালিকানা দাবি করে দোকানঘরগুলো দখল করেছেন।’

আমজানখোর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশে দখল হওয়া দোকানগুলোর সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
আমজানখোর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশে দখল হওয়া দোকানগুলোর সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দখল করা দোকানগুলোতে যুবদল নেতার লাগানো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগাচ্ছিল মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোজাম্মেল।

মোজাম্মেল হক দাবি করেন, ওই জমির মালিক তিনি। তাঁর কাছেও মালিকানা-সম্পর্কিত কাগজপত্র রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের পক্ষে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিস অথবা আইনজীবীর নিকট পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই কথা শোনেনি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ব্যস্ততার কারণে দেখার সুযোগ হয়নি। দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত