Ajker Patrika

ঠাকুরগাঁও থেকে দূরপাল্লার বাসে ১০০-১৫০ টাকা বেশি ভাড়া আদায়

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও থেকে দূরপাল্লার বাসে ১০০-১৫০ টাকা বেশি ভাড়া আদায়
তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে শহরের একটি পাম্পে গতকাল রাতে মানুষের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকার লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এরপরই কোনো ঘোষণা ছাড়াই আজ সোমবার সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও থেকে দূরপাল্লার বাসগুলোতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন কর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় এমন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন যাত্রীরা। তাঁদের দাবি, ভাড়া বাড়াতে হলে তা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা উচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরে গতকাল রাত থেকেই জেলার সব পাম্পে মানুষের উপচেপড়া ভিড় জমে। রাত ১২টার পর নতুন দাম কার্যকর হলে ভিড় শূন্য হয়ে যায় পাম্পগুলো। সকাল হতেই ঠাকুরগাঁও শহরের দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে শুরু হয় ভাড়া বাড়ানোর উৎসব। ঢাকা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটের বাসের টিকিটে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

শহরের আমতলী এলাকার একটি নৈশকোচের কাউন্টারে ঢাকাগামী যাত্রী শাহেদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি নিয়মিত স্লিপার কোচে ঢাকায় যাতায়াত করি। আগে ভাড়া ছিল ১৪০০ টাকা, আজ চাইছে ১৫০০ টাকা। কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ এভাবে ভাড়া বাড়ানোয় আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হলো।’

যাত্রীদের আপত্তির বিষয়ে কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম সাফ জানিয়ে দেন, ‘মালিকপক্ষ বেশি ভাড়া রাখতে বলেছে, আমরা সেটাই করছি। যাত্রীরা যদি এই ভাড়ায় যেতে না চান, প্রয়োজনে গাড়ি খালি ঢাকায় যাবে।’

আজ এমন চিত্র দেখা গেছে ঠাকুরগাঁও শহরের প্রায় প্রতিটি দূরপাল্লার বাস কাউন্টারেই। কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত তুলে ধরে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল রাতে তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর পরই ঠাকুরগাঁওয়ের পেট্রল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পুরোনো দামে তেল কিনতে পাম্পগুলোতে ছিল মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। তবে রাত ১২টায় মিটারে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরপরই পাম্পগুলো ফাঁকা হয়ে যায়।

গতকাল রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের চৌধুরী পাম্প ও হানিফ পেট্রল পাম্পসহ একাধিক পাম্প ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভিড় সামলাতে পাম্প কর্মচারীদের চরম হিমশিম খেতে হয়। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টার দিকে এগোতেই তেল না পাওয়ার আশঙ্কায় অপেক্ষমাণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।

ঠিক রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের মিটারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে দিলে লাইনে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় তীব্র হুলুস্থুল ও চিৎকার-চেঁচামেচি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুল ইসলাম নামের এক চালক বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে আগের দামে তেল পেতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। পাম্পের আগের কেনা তেল তো শেষ হয়নি, তাহলে আগের তেল কেন বেশি দামে বিক্রি করবে? আমি কেন আগের রেটে তেল পাব না?’

একই প্রশ্ন তুলে গোলাম রসূল নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘সরকার বলল রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর। কিন্তু পাম্পে থাকা আগের তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশি দামে বেচবে কেন? সরকার কি পাম্পমালিকদের আগের তেল বেশি দামে বিক্রির সুযোগ করে দিল? সাধারণ জনগণের দিকে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।’

পাম্পের অস্বাভাবিক ভিড় প্রসঙ্গে হানিফ পেট্রল পাম্পের দায়িত্বে থাকা ফরিদুজ্জামান বলেন, ‘লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো কম কথা নয়। এই ঘোষণার পর হঠাৎ পাম্পে ভিড় জমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।’

এসব পরিস্থিতি সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘রোববার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পাম্পে বাড়তি তেল নেওয়ার হুলুস্থুল এবং পরদিন বাসভাড়া বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর খরচের চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানির এই বাড়তি দামের প্রভাব যাত্রী ও যানবাহনের গণ্ডি পেরিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত