Ajker Patrika

জ্বালানি আমদানি

অর্থসংকটে বিপিসি, ছয় মাসে ১০ চিঠি মন্ত্রণালয়ে

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 
অর্থসংকটে বিপিসি, ছয় মাসে ১০ চিঠি মন্ত্রণালয়ে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে চড়া দামে জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। এ কারণে গত ছয় মাসে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে সংস্থাটির। এতে অর্থসংকটে পড়তে যাচ্ছে বিপিসি। চলতি সেপ্টেম্বরে সমস্যা না হলেও অক্টোবরে জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলায় অর্থসংকটে পড়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি কর্তৃপক্ষ।

অর্থসংকটের বিষয়টি জানিয়ে গত ১১ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিপিসি থেকে ১০ দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে। সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সংস্থাটির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ছয় মাসে বিপিসির অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ছে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়। সরকারি উদ্যোগ না থাকলে অক্টোবরে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিপিসির তথ্যমতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তত দুই মাসের জ্বালানি আমদানির সমপরিমাণ কার্যকরী মূলধন তাদের হাতে রাখা জরুরি। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, এই লক্ষ্যপূরণে তাদের অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে সেই অনুপাতে দাম না বাড়ানোয় এই অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য বিপিসি এরই মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা তহবিল থেকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ফেলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় প্রথমবারের মতো ১০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা) সীমা ছাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পণ্যভিত্তিক আমদানি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয় ছিল ৭৫.২৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে ১৪.১৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ৭ ডলারের মধ্যে প্রায় ১ ডলারই ব্যয় হয়েছে জ্বালানি আমদানিতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৫.১৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৩ হাজার ৩৯ কোটি টাকা)। এক বছরের ব্যবধানে এ ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করতে হিমশিম অবস্থা বিপিসির।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের সাবেক (অপারেশন) কর্মকর্তা আসিফ মালেক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় স্থানীয় রিসোর্স বাড়ানো দরকার। ক্যাপাসিটি বাড়ানোর নতুন নতুন ট্যাংক বানানো দরকার। যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে গোলযোগ, তাই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় বাজার খোঁজা উচিত।’

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছরে জ্বালানি আমদানি করা হয় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন। আমদানি করা জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল।

গত অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় ৯২ শতাংশ বেড়ে ১.২০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১৪ হাজর ৭৩৬ কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পিওএল পণ্যে ব্যয় ১০৯.১ শতাংশ বেড়ে ৯.৪৪ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা) পৌঁছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত