Ajker Patrika

পীরগঞ্জে ৭ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শিক্ষার্থী-রোগীদের

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
পীরগঞ্জে ৭ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শিক্ষার্থী-রোগীদের
এভাবেই ভাঙা সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ছোট ছোট শিশুরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগারা গ্রামের লাচ্ছি নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া সাঁকোটির মাঝের অংশ সম্প্রতি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকেরা।

গত রোববার (৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, লাচ্ছি নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে পড়ে আছে। পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছেন। তবে সাঁকোটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, পায়ে হেঁটে কিংবা বাইসাইকেল নিয়ে নিরাপদে পার হওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগারা ও ছিট বাঁশগাড়া গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সংযোগ ছিল এই সাঁকোটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ সাঁকোটি ব্যবহার করতেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কাঠের সাঁকোটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই হঠাৎ করে এর মাঝের অংশ ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বেশি সমস্যা হচ্ছে বিদ্যালয় ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পার হতে গিয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। একইভাবে অসুস্থ রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ভাঙা সাঁকোর কারণে উপজেলা সদরে যেতে স্থানীয়দের প্রায় সাত কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে বেড়ে যাচ্ছে যাতায়াত খরচ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাসেম বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় পানিতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

জুলফিকার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ারও সহজ কোনো ব্যবস্থা নেই। কৃষকেরাও তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়েই ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচল করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়েই ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচল করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সনাতন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাঁশগারা ও ছিট বাঁশগাড়া গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য কাঠের তৈরি সাঁকোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছি।’

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক হয়।’

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অস্থায়ীভাবে সাঁকো মেরামত করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এখানে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাই দ্রুত ভেঙে যাওয়া সাঁকোর স্থানে অন্তর্বর্তীকালীন পারাপারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে একটি পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত