Ajker Patrika

টাঙ্গাইলে নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুর থেকে শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার, মন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৩: ৩৩
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুর থেকে শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার, মন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আট বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে শিশুটির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর মোবাইল অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।

শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে শিশুটি তার বাড়ির পাশে উপজেলা পরিষদ মাঠে খেলতে যায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও সে বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদ পুকুরে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত শিশুর বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর অপহরণকারীদের কাছ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা আসে।

তিনি বলেন, ‘মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার জন্য মাত্র ২০ মিনিট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আমরা দরিদ্র মানুষ, কিছু টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমার মেয়েকে মেরেই ফেলল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দাবির যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিসহ সব দিক মাথায় রেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে আমাদের তদন্ত চলছে।’

লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ভিডিও কলে নিহতের বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানার পরই পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি নিজেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই শিশুর বাড়িতে যাব। মেয়েটি কীভাবে পুকুরে পড়ে গেল, নাকি কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে—এর পেছনে অন্য কারও হাত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সব ধরনের তদন্ত করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত