Ajker Patrika

এনসিটি টার্মিনালের চুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৫০
এনসিটি টার্মিনালের চুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য: বাণিজ্যমন্ত্রী
মতবিনিময় ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য দেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হয়েছে। এ ছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এর পরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে। এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যাঁরা বলছেন, সেটি সস্তা ও অমূলক একটা কথা। চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মতবিনিময় ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য দেন। বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ ও রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে। এ কারণেই চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে ইফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশের ইফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই চুক্তি করা হয়েছে।’

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে, যাঁরা বন্দরে কাজ করছেন, তাঁদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন, আগামী দিনে ইফিসিয়েন্সি বাড়ার কারণে তাঁদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান, সেটির পরিমাণও বাড়বে।

সিলেটের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা কিন ব্রিজ দেখতে যাব। সেখানে কিন সাহেবের এই ব্রিজ থাকবে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে। যেহেতু এটার বয়স অনেক দিন হয়ে গিয়েছে, তার পাশেই যেন একটা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ করতে পারি, সেটার সম্ভাব্যতা আমরা যাচাই করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হোমোজিনিয়াস (সমজাতীয়) একটা নেশন। দেখতে এক রকম, চালচলন এক রকম, কথাবার্তা এক রকম এবং আমাদের সম্প্রীতি সব সময়ই অটুট। এটাই আমাদের শক্তি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশন মানবকল্যাণে কাজ করে এবং নগরবাসীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা করাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। আরও বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে পূজা উপলক্ষে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। নগরীর ৮৫টি মণ্ডপে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত