
বিশ্বজুড়ে জলবায়ুগত অবস্থা ‘এল নিনো’ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং আগামী ডিসেম্বরে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত ৭৬ বছরের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে এটি।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে—প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। আর মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ সংকট আরও তীব্র রূপ নেবে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) তাদের মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেটে’ বলেছে, ‘ডিসেম্বরে পূর্বাভাস অনুযায়ী শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এল নিনো আরও জোরদার হতে থাকবে।’ সংস্থাটি আরও জানায়, ‘এর প্রভাবে বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে।’
এল নিনোর কারণে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধারায় পরিবর্তন আসে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর এটি দেখা দেয় এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতি এল নিনো এবং এর বিপরীত রূপ ‘লা নিনা’-র মধ্যে ওঠানামা করে, আর এই দুইয়ের মাঝে আবহাওয়া স্বাভাবিক বা নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ‘২০২৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে মধ্য ও পূর্ব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এটি এল নিনো পরিস্থিতির দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠার সংকেত দেয়, যা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বাস্তুতন্ত্র এবং মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ১৩টি শীর্ষ আবহাওয়া কেন্দ্রের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএমও-এর প্রধান সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘এল নিনো ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং অত্যন্ত দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ডব্লিউএমও-এর পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই পরিস্থিতি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বজায় থাকবে। ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড হওয়া সর্বকালের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে এটি।’
সাউলো ব্যাখ্যা করে বলেন, এল নিনো পৃথিবীতে নতুন কোনো উত্তাপ তৈরি করে না, বরং মহাসাগরে জমা থাকা তাপ মুক্ত বা নির্গত করে। তিনি বলেন, ‘যে মহাসাগর থেকে এটি তাপ নিচ্ছে, সেটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে উন্মুক্ত করার মতো তাপ এখন অনেক বেশি রয়েছে।’
মধ্য-পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা পরিমাপক সূচকটি—যা এল নিনোর মূল কেন্দ্রবিন্দু—গত জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা আগস্টে বেড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে তা তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড হবে, যা ২০১৫-২০১৬ সালের আগের ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। সর্বশেষ ঘটে যাওয়া এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ সাল ইতিপূর্বে রেকর্ড করা ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর এবং ২০২৪ সালটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হয়ে উঠেছিল। তখন তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী (১৮৫০-১৯০০) সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
যদিও এল নিনো সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে চরম আকার ধারণ করে, তবে এর ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির আসল প্রভাবটা অনুভূত হয় কিছুটা পরে। ইতোমধ্যেই এই এল নিনো কিছু অঞ্চলে প্রচণ্ড আঘাত হানতে শুরু করেছে, বিশেষ করে মধ্য আমেরিকায়, যেখানে খরার কারণে পশুপাখি ও ফসলাদি মারা যাচ্ছে।

হেমন্ত প্রায় শেষের পথে। বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা শোনা যাচ্ছে। সাধারণত শীত এলে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। আর অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে বাতাস। আজ সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায়...
৪ ঘণ্টা আগে
রাতের বেলা হালকা ঠান্ডার সঙ্গে কোথাও কোথাও ভোর পর্যন্ত থাকছে কুয়াশা। গতকাল সন্ধ্যায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানী ঢাকায় ছিল ২৩ দশমিক ৫।
৬ ঘণ্টা আগে
মানুষের কর্মকাণ্ডের ক্রমবর্ধমান চাপ শুধু হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংকুচিত করছে না, বদলে দিচ্ছে সেখানকার একটি মনোমুগ্ধকর পাখির যোগাযোগের ধরনও। ভারতীয় গবেষকদের দুটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে
২১ ঘণ্টা আগে
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের নিস্তব্ধতায় যার বসবাস, মানুষের ক্রমবর্ধমান শোরগোল যেন তার জীবনের ধরনই পাল্টে দিচ্ছে। বলছি, হিমালয়ের গানের পাখি মোনাল পাখির কথা। মোনাল ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের ‘রাজ্য পাখি’ এবং নেপালের জাতীয় পাখি। ভারতীয় গবেষকদের দুটি পৃথক গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষের শোরগোলে অতিষ্ঠ হয়ে...
১ দিন আগে