Ajker Patrika

বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা 
ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ভোক্তা বা রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা এবার হাতবদলের পথে। ১২০ বছরের কার্যক্রমের পর বহুজাতিক এই ব্যাংক তার ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং (ডব্লিউআরবি) ব্যবসা বিক্রির প্রক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ডব্লিউআরবির আওতায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টাডের এ ব্যবসার পণ্যতালিকায় রয়েছে আমানত, ব্যক্তিগত, গাড়ি ও গৃহঋণ, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, শাখা ও ইসলামি ব্যাংকিং সেবা।

এদিকে এমন ঘোষণার পরপরই বহুজাতিক এই ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ঘিরে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আগ্রহও বেশ প্রকাশ্য হয়ে ওঠেছে। ইতিমধ্যেই এ ব্যবসা কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশের ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক—ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে যেসব ব্যবসা ও গ্রাহক শ্রেণিতে তাদের সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা ও আলাদা সুবিধা রয়েছে, সেসব খাতে মূলধন ও মনোযোগ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ডব্লিউআরবি ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য হস্তান্তর শেষ করতে ১৮-২৪ মাস লাগতে পারে। তবে এ সময়ে বাংলাদেশে তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং গ্রাহক ও কর্মীদের ওপর এতে কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না।

এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের মূলধন প্রবাহ ও অবকাঠামো অর্থায়নে বাংলাদেশের বাজারে ব্যাংকটির বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা আরও বাড়াতে চান তাঁরা। তাই রিটেইল ব্যবসা হস্তান্তর হলেও এ দেশে এসব খাতে ব্যাংকটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আগ্রহী ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো কম খরচের আমানত। এ ব্যবসায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে, যার বড় অংশের সুদহার ১ থেকে ২ শতাংশ। বিপরীতে দেশীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আমানতে সুদহার সাধারণত ৬-৯ শতাংশ। ফলে কম সুদের আমানতের পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রাহক ভিত্তি পাওয়ার সুযোগেই স্থানীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বেশি।

তবে ব্যবসাটি কেনার সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার কর্মীকেও নেওয়ার শর্ত রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনই রিটেইল ব্যাংকিংয়ে কাজ করেন। ব্যবসাটির আওতায় রয়েছে ১৮টি শাখা, ইসলামি ব্যাংকিং, কার্ড, আমানত ও বিভিন্ন ধরনের খুচরা ঋণ। রিটেইল ব্যবসায় ঋণ রয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিক্রি চূড়ান্ত হলে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য একসঙ্গে বড় আমানত, ঋণ, কার্ড ব্যবসা, শাখা ও অভিজ্ঞ জনবল নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর বিপরীতে কর্মীদের দায়িত্ব, ঋণের মান, গ্রাহক ধরে রাখার খরচ এবং ব্যবসাটির মূল্য নির্ধারণ বড় বিবেচনার বিষয় হবে। তাই আগ্রহী ব্যাংকগুলো এখন সম্ভাব্য লাভ ও ঝুঁকি দুটিই হিসাব করছে। শুধু কম খরচের আমানত পেলেই ব্যবসাটি লাভজনক হবে না।

এরই মধ্যে কয়েকটি আগ্রহী ব্যাংক ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের জন্য অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি বা এনডিএ সই করেছে। অন্য ব্যাংকগুলোও এনডিএ সইয়ের আগ্রহ জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। সম্ভাব্য লেনদেনের আগে মূল্যায়ন, যাচাই-বাছাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত