Ajker Patrika

সিলেটে সিসিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভবন নির্মাণ ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটে সিসিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভবন নির্মাণ ও দুর্নীতির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়সর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর জল্লারপাড়ে মাত্র তিন ফুট রাস্তাসংবলিত স্থানে সিটি করপোরেশনের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ, প্রতিবেশীর আলো-বাতাসের অধিকার ক্ষুণ্ন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে।

আজ মঙ্গলবার নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জল্লারপাড়ের বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়সর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে কয়সর রহমান বলেন, তাঁর বাসার পাশের ১৮ নম্বর বাসায় বসবাস করেন সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রজি উদ্দিন খান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নিজের প্রভাব খাঁটিয়ে মো. রজি উদ্দিন খান সিটি করপোরেশনের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও সেফটি গ্যাপের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই মাত্র তিন ফুট রাস্তাসংবলিত স্থানে ভবনের পঞ্চম তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। ভবনটি নির্মাণের সময় বাধ্যতামূলক সেফটি গ্যাপ রাখা হয়নি। ফলে ভবনটি তাঁর বাড়ির গা-ঘেঁষে নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ভোগ করে আসা আলো-বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে তাঁর পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়সর রহমান বলেন, মো. রজি উদ্দিন খান নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে একাধিক গাড়ি, জমি ও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। গোয়াবাড়ী এলাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাংলো নির্মাণ করেছেন। অনুসন্ধান এড়াতে ওই বাড়িতে কোনো নামফলকও ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় এবং আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে তিনটি জীবনবিমা স্কিম চালুর অভিযোগও করা হয়।

কয়সর রহমান আরও অভিযোগ করেন, দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত মাস্টাররোল শ্রমিকের সংখ্যা কাগজে-কলমে বাড়িয়ে দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অবৈধ ভবন অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত বছরের ২০ নভেম্বর সিসিকে লিখিত আবেদন করা হয়। কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, সদর সিলেটে স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া ৩০ জুন মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কয়সর রহমান জল্লারপাড়ের ১৮ নম্বর বাসার নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চম তলার অবৈধ অংশ অপসারণ, সিসিকের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অবৈধ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে মো. রজি উদ্দিন খানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তাঁর সব সম্পদের দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান জানান, আমার বাসার কাগজপত্র সহ সবকিছুই ঠিক আছে। উল্টো উনার কিছুই ঠিক নাই। তিনি আদালতে মামলা করেছেন, সেখানে এটা প্রমাণ হওয়ার কথা। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন, সবগুলোই মিথ্যা এবং শত্রুতাবশত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত