Ajker Patrika

ইবাদতে স্বাদ পাওয়ার ৪ উপায়

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
ইবাদতে স্বাদ পাওয়ার ৪ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

ইবাদত বান্দা ও তার রবের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম। রাসুল (সা.) ইবাদতে এমন স্বাদ পেতেন যে তিনি বলতেন, ‘নামাজে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।’ (সহিহুল জামে: ৩০৯৮)। প্রত্যেক মুমিনের চেষ্টা হওয়া উচিত ইবাদতের সেই মধুরতা অর্জন করা। এ ক্ষেত্রে নিচের চারটি বিষয় বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।

১. একনিষ্ঠতার সঙ্গে ইবাদত করা

ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো ইখলাস। অর্থাৎ সব আমল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা। লোকদেখানো বা পার্থিব কোনো লাভের উদ্দেশ্যে করা ইবাদত হৃদয়ে প্রশান্তি সৃষ্টি করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা শুধু সেই আমলই কবুল করেন, যা একান্তভাবে তাঁর জন্য নিবেদিত হয়।

২. পরকালের কথা স্মরণ করা

ইবাদতে মনোযোগ সৃষ্টির অন্যতম চাবিকাঠি হলো পরকালের জবাবদিহির অনুভূতি জাগ্রত রাখা। একই সঙ্গে জান্নাতের আশা, জাহান্নামের ভয়, কোরআনের আয়াতগুলোর অর্থ বোঝার চেষ্টা, নামাজে পড়া সুরা ও দোয়ার অর্থ জানা—এসব কাজ হৃদয়কে ইবাদতের প্রতি ক্রমেই আকৃষ্ট করে তোলে।

৩. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

গুনাহ মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। পাপ করতে করতে একসময় ইবাদতের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। তাই ইবাদতের মাধুর্য অর্জনের জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো ভুল হয়ে যায়, তাহলে দেরি না করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে। বেশি বেশি ইস্তিগফার, জিকির এবং নেক আমলের মাধ্যমে হৃদয়ের মরিচা দূর হয়।

৪. নিয়মিত নফল ইবাদত

ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল আমল বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। তাহাজ্জুদ, নফল নামাজ, নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির এবং বেশি বেশি দোয়া হৃদয়কে জীবন্ত রাখে। অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর অধিক প্রিয়।

ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ এক দিনে অর্জিত হয় না, এটি ধারাবাহিক সাধনা ও আল্লাহর অনুগ্রহের ফল। যে ব্যক্তি ইখলাসের সঙ্গে আমল করে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, পরকালের কথা স্মরণ করে এবং নিয়মিত নফল ইবাদতের চর্চা করে, আল্লাহ তার হৃদয়কে ইমানের আলোয় আলোকিত করেন। তখন ইবাদত তার কাছে শান্তি, প্রশান্তি ও আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত