Ajker Patrika

পাহাড়ি ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের ৩০ মিটার বিলীন, ভাঙা বাঁধ দিয়ে ঢুকছে পানি

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি 
পাহাড়ি ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের ৩০ মিটার বিলীন, ভাঙা বাঁধ দিয়ে ঢুকছে পানি
শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দুই বছর আগে ভেঙে যাওয়া নালিতাবাড়ীর গোল্লারপাড় এলাকার চেল্লাখালী নদীর বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে ঢলের পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে।

তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ভোগান্তি কাটেনি স্থানীয়দের।

বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চেল্লাখালী ও ভোগাই নদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নালিতাবাড়ীতে ৪ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ভোগাই নদের পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি ছিল। তবে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার এবং ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়। ফলে সড়কের সরু অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালী নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। তবে বর্তমানে ফসলি জমিতে আবাদ না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে চেল্লাখালী নদীর বেড়িবাঁধের ওই অংশ ভেঙে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি ঢল নামলেই ওই স্থান দিয়ে পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দিলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আমন মৌসুম শুরুর আগে বাঁধটি মেরামত করা না হলে ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিম্নাঞ্চলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে গোল্লারপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গোল্লারপাড় এলাকায় নদীর বাঁধ নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। সেটি অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত