Ajker Patrika

শরীয়তপুরের জাজিরা: ১২ শ কোটির তীর রক্ষা প্রকল্পে ভাঙন, আতঙ্ক

  • ঝুঁকিতে রয়েছে ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি
  • প্রকল্পের প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরা: ১২ শ কোটির তীর রক্ষা প্রকল্পে ভাঙন, আতঙ্ক
তীর রক্ষা প্রকল্পের জিও ব্যাগ পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি শরীয়তপুরের জাজিরার কাথুরিয়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুরের জাজিরায় নির্মাণাধীন ১ হাজার ২০২ কোটি টাকার তীর রক্ষা প্রকল্পের কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রকল্পের প্রায় ২০০ মিটার অংশ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাঙনে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, ফরাজীকান্দি এবং নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি ও আলম খারকান্দি এলাকায় সাতটি দোকান নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে ইতিমধ্যে ২৫টি পরিবার তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার সকালে নদীর তীরে থাকা জিও ব্যাগ তলিয়ে যেতে এবং মাটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। পরে এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সাবধান করা হয়। এর পর থেকেই অনেকে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ বসতভিটার গাছপালাও কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

কাথুরিয়া এলাকার মুদিদোকানি রেজাউল করিম বলেন, ‘মালামালসহ আমার মুদিদোকানটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার ভাঙনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’ ভ্যানচালক ইবরাহীম ঘরামী বলেন, ‘আমি একটি ঘর সরাতে পেরেছি, আরেকটি ঘর নদীতে তলিয়ে গেছে।’

পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রকল্পের কাজ চলছে, জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও ক্লক স্থাপনের কাজও হচ্ছে। এর মধ্যেই আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু এলাকার নাওডোবা মাঝিরঘাট থেকে ভাটিতে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত পদ্মার ডান তীরে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার এলাকায় তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে। ৩৯টি প্যাকেজে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের মার্চে পূর্ব নাওডোবার জিরো পয়েন্ট থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালে প্রকল্পের একটি অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট থেকে উজানে আরও দুই কিলোমিটার এলাকা প্রকল্পের আওতায় যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

পাউবো জানায়, প্রকল্পের প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছিল। তবে বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে স্থায়ী কাজের কিছু অংশ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত কংক্রিটের ব্লক তৈরির কাজ চলছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পের ১২ নম্বর প্যাকেজ এলাকায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করা হয়েছে। এতে আপাতত ভাঙন বন্ধ রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত