Ajker Patrika

হাওরাঞ্চল: ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

  • সহকারী শিক্ষককে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে
  • সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে ১০৭ টি
  • নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত
মো.ফরিদ রায়হান, অষ্টগ্রাম
হাওরাঞ্চল: ১৪৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 
নেই প্রধান শিক্ষক
ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে ২৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪৯ টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রতিটিতে একজন সহকারী শিক্ষককে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষকের যাবতীয় কাজ করতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

জেলার দুর্গম হাওর জনপদ অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে ২৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ৩০টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। তিন উপজেলায় প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৬ হাজার ৪২৯ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাওরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের শতাধিক পদও শূন্য আছে। বিদ্যালয়গুলোর ১ হাজার ১৫১টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ১ হাজার ৪৪ শিক্ষক রয়েছেন। শূন্যপদ রয়েছে ১০৭ টি। প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ‘চলতি দায়িত্ব’ ও ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে কাজ করছেন ১৪৯ সহকারী শিক্ষক। এর ফলে কার্যত ২৫৬ সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হয়ে আছে।

জানা গেছে, অষ্টগ্রামের ৮টি ইউনিয়নে ৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭ হাজার ৩০০ ছাত্রছাত্রী আছে। ৮৩ বিদ্যালয়ের মাত্র ২৫ টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন। ১৯ সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য। ৫৩ সহকারী শিক্ষক বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষকের কাজও করতে হচ্ছে। ফলে কার্যত ৭২ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।

ইটনার ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সুপ্রজিৎ দাস চৌধুরী বলেন, ছয় পোস্টের স্কুলে চার শিক্ষক এবং ২২০ ছাত্র-ছাত্রী আছে। মাঝেমধ্যে আমাকে উপজেলা অফিসে যেতে হয়। সে সময় তিন শিক্ষককে দিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করানো অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। তারপরও শ্রেণিকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দরকার।

মিঠামইন উপজেলার হাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এখন উপজেলায় মাসিক সভায় এসেছি। আমার স্কুলে ২৩৪ শিক্ষার্থী। চারজন শিক্ষকের স্থলে আছে একজন। সম্প্রতি দুজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। শিক্ষক নিয়োগ না হলে এই সমস্যা কমবে না।

অষ্টগ্রাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতিবিষয়ক মামলার কারণে প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ ছিল। গত মাসে সেই মামলার রায় হয়েছে। অচিরেই শূন্যপদ পূরণ হবে বলে আশা করি।

কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে প্রমোশন দেওয়ার জন্য তালিকা মন্ত্রণালয়ের যাচ্ছে। আশা করি, সেখানের ক্লিয়ারেন্স এলে পদায়ন শুরু করবে অধিদপ্তর। নিয়োগ ও বদলি সমন্বয়ের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক শূন্যপদ অধিকাংশ কমে আসবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত