Ajker Patrika

শরীয়তপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণে যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
ককটেল বিস্ফোরণে আহত যুবক। ছবি: আজকের পত্রিকা
ককটেল বিস্ফোরণে আহত যুবক। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সংঘর্ষে ককটেলের আঘাতে এক যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারিকান্দি ও বুধাইরহাট এলাকায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহত যুবকের নাম জাবেদ শেখ (২০)। তিনি বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারিকান্দি এলাকার দিপু শেখের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ হাতবোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল জলিল মাতবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জেরে বিভিন্ন সময় তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আসছে।

গত বছরে বিলাসপুরে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা করে। ওই মামলায় আবদুল জলিল মাতবর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর দিকে, ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক তাজুল ছৈয়াল ও আবদুল জলিল মাতবরের সমর্থক নাসির ব্যাপারীর লোকজন নতুন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার রাতে বুধাইরহাট এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজন একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এর জের ধরে রোববার সকালে বুধাইরহাট বাজারে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দুটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ককটেলের আঘাতে জাবেদ শেখ গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের পর তাজুল ছৈয়াল, নাসির ব্যাপারীসহ উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং চার বালতি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। যারা এ নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত