Ajker Patrika

শরীয়তপুরে স্বামীকে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে স্বামীকে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার চারজন। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে জিম্মি করে এক গৃহবধূকে (২৫) তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূ নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকার (৪২), নড়িয়া উপজেলার আচুড়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর ছেলে মো. রাব্বি বেপারী (২৮) ও আবদুল মালেক খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৬)।

এ ঘটনায় আরও ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামীর সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকারের মাদক কারবারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হযরত আলী খন্দকার ও তাঁর সহযোগীরা কৌশলে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামীকে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে এবং তাঁর স্ত্রীকে টাকা নিয়ে আসতে বলে।

নিরুপায় হয়ে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী ফোনে তাঁর স্ত্রীকে টাকা নিয়ে এসে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বলে। পরবর্তী সময়ে হযরত আলী খন্দকারের দুই সহযোগী একটি অটোরিকশাযোগে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামীর বাড়ি গিয়ে তাঁর স্ত্রী ও তাঁর চার বছরের মেয়েকে স্বামীর কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। তাঁরা পার্শ্ববর্তী নড়িয়া উপজেলার আচুড়া গ্রামের আজিত ঢালীর বাগানের কাছে নিয়ে যায় তাদের। সেখানে হযরত আলী ধর্ষণের শিকার নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে নেয়। এ সময় ধর্ষণের শিকার নারী জানতে চান তাঁর স্বামীয় কোথায়? উত্তরে হযরত আলী বলেন, তোর স্বামী তোকে আমাদের কাছে বিক্রি করেছে। এই কথা বলে হযরত আলী ও তাঁর সহযোগীরা নারীর গলায় ছুরি ধরে বাগানের মধ্যে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় একজন তাঁর চার বছরের মেয়েকে মুখ চেপে ধরে রাখে। নির্যাতনের ফলে নারী অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্বামীকে তাঁদের কাছে নিয়ে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নড়িয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে রাত ৩টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

পরে ভোরে অভিযান চালিয়ে মো. রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার ও ইমন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দলবদ্ধ ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত