নামে মার্কেট, বসে মাদকের আসর
• ১ হাজার ৬১টি দোকানের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৪৭টি
• বাকি দোকানগুলো পড়ে আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়
• বরাদ্দ নেওয়ার পর থেকে ভাড়া দেননি কোনো ব্যবসায়ী
• সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার তাগিদও দেয়নি ব্যবসায়ীদের
• বেদখল হয়েছে অনেক দোকান

রংপুরের এরশাদ হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে ২০১০ সালে। ১ হাজার ৬১টি দোকানের মধ্যে ৭৪৭টি বরাদ্দ দেওয়া হয় নির্মাণের পরপরই। এরপর রংপুর পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে মার্কেটের খোঁজ নেয়নি কেউ। বরাদ্দ পাওয়া দোকানিরাও দিচ্ছেন না ভাড়া। বেদখল হয়েছে অনেক দোকান। সন্ধ্যার বসে মাদকের আড্ডা।
তৎকালীন রংপুর পৌরসভার উদ্যোগে নগরের রাধাবল্লভ মৌজার হনুমানতলায় ২ একর ২৪ শতক জমিতে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। নাম দেওয়া হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে। ১ হাজার ৬১টি দোকানের মধ্যে ৭৪৭টি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি দোকানের জন্য জামানত নেওয়া হয় অফেরতযোগ্য দেড় লাখ টাকা। আর দোকানের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৪৫০ টাকা। তবে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ পড়ে আছে। বেশ কিছু দোকান বেদখল হয়েছে। শুরু থেকে দোকানগুলোর ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে ১৬ বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মার্কেটের সামনের অংশের কয়েকটি দোকানে কাপড়ের ব্যবসা চলছে। ভেতরের অধিকাংশ দোকান বন্ধ। কিছু দোকান গোডাউন ও ছোট কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হকারদের জন্য রাখা খোলা জায়গার দোকান বা সেটগুলোও পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। হকারদের জন্য রাখা খোলা জায়গার দোকান বা সেটগুলোও পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটটিতে নিরাপত্তা ও ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা।
নগরীর গোমস্তাপাড়ার বাসিন্দা আবুল হোসেন মার্কেটে ছয়টি দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যবসা করতে পারিনি। দোকানগুলোর ভাড়াও কেউ নেয়নি। ব্যবসার পরিবেশ নেই, পুরো মার্কেটেই দোকানপাট বন্ধ। সিটি করপোরেশনকে টাকা দেব কীভাবে, কেউ তো টাকা চায়ওনি।’
মার্কেটের সভাপতি মো. রিপন সিকদার বলেন, ‘দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ জমিজমা বিক্রি করে দোকান নিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যবসার পরিবেশ না থাকায় তাঁদের অনেকে অন্য কিছু করছেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মার্কেটটি ছয়তলা করার এবং সামনের জায়গা উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ নিয়ে আলোচনা ও সভাও হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর কাজ এগোয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রসিকের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রুবেল রানা বলেন, ‘প্রশাসক মার্কেটটির সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেছেন। বৈধভাবে দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে মার্কেটটি কীভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের ভাড়া না দিয়ে অবৈধভাবে দখলে থাকা ব্যক্তিদের দোকান ছেড়ে দিতে বলা হবে। এ ছাড়া অব্যবহৃত হকার সেটের জায়গা পরিষ্কার করা এবং সেখানে কী ধরনের উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে প্রকৌশল শাখা কাজ করছে।’
রসিকের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, ‘মার্কেটটি পরিদর্শন করেছি। এটি নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
সুজনের রংপুর মহানগর কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ বলেন, সড়ক থেকে হকারদের সরানোর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগটি ভালো। নগরবাসীকে এই উদ্যোগে সমর্থন জানাতে হবে, যাতে সড়কে হকার বসতে না পারে। হকার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের মার্কেটে স্থানান্তর করা গেলে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।









