Ajker Patrika

পীরগঞ্জ গুর্জিপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৬, শিক্ষক-কর্মচারী ১১ জন

মিফতাহুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (রংপুর)
পীরগঞ্জ গুর্জিপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৬, শিক্ষক-কর্মচারী ১১ জন
তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠদার করছেন একজন শিক্ষিকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গুর্জিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের নথিপত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০ জন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ১১ জন দেখানো হলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬ জন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ৮ জন।

গত সপ্তাহে বিদ্যালয়টিতে যান আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি। তবে গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন অফিস সহায়ক। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক ছাড়াও প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এমনকি ডিজিটাল শিক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা ল্যাপটপগুলোও প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা জানান, খাতাটি প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষে রেখে তালাবদ্ধ করে গেছেন। ওই সময় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নুরে ছবি, শরীরচর্চা শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের স্বামী কাউকেই পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়টিতে ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করলেও ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিদ্যালয়টির এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী পাস করে। একইভাবে ২০২৬ সালেও এসএসসিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র একজন। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থী সংকট চললেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বালিকা বিদ্যালয় এলাকার মেয়েদের শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিক্ষার পরিবেশ ভালো না থাকায় অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের ওই স্কুল পাঠাতে চান না। প্রতিষ্ঠানে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জনই একই পরিবারের সদস্য। প্রধান শিক্ষিকার স্বামী শরীরচর্চার শিক্ষক, ভাই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ভাইয়ের মেয়ে আয়া। এটি একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকেছে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী সংকট দীর্ঘদিন ধরে চললেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নামমাত্র প্রতিষ্ঠানটি জিইয়ে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ার আগেই এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরে ছবির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন তাঁর স্বামী ও শরীরচর্চা শিক্ষক মাহফুজার রহমান ওরফে ফাইন। তিনি বলেন, ‘আমরা জেলা পরিষদে আছি।’ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আপনাদের কী করার আছে করেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, তিনি দ্রুত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই বিদ্যালয়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত