তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণ, কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একটি হত্যা মামলার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাব, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশসহ স্থানীয় সাংবাদিক মহল।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক দেশ মা পত্রিকার উপসম্পাদক ও আজকের পত্রিকার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি এবং ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান। অপরজন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যায়যায়দিনের উপজেলা প্রতিনিধি রজব আলী।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার একটি আলোচিত হত্যা মামলার তথ্য সংগ্রহ করতে তাঁরা ফুলবাড়ী থানায় যান। এ সময় থানার ওসি শহিদুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে মামলাটির বিষয়ে জানতে চান। ওসি তাঁদের জানান, মামলার কাগজপত্র আদালতে না পৌঁছানো পর্যন্ত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
পরে সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রকাশের জন্য অন্তত প্রাথমিক তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে ওসি তাঁদের বলেন, সময় হলে তথ্য জানানো হবে, এখন দেওয়া যাবে না। কখন তথ্য পাওয়া যাবে, জানতে চাইলে তিনি সময় নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন না বলে জানান।
একপর্যায়ে ওসি ক্ষুব্ধ হয়ে টেবিল চাপড়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের যদি ক্ষমতা থাকে, তথ্য নেন। পারলে এসপিকে ফোন দেন।’ এ কথা বলেই তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ আবু শহীদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিকেরা এ ধরনের আচরণের শিকার হবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না।’
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তথ্য চাওয়া সাংবাদিকদের অধিকার। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।’
দুই সংগঠনের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁরা এ ঘটনাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা বলেন, ‘ওসিদের সব সময় বলি, সাংবাদিকেরা এলে তাঁদের প্রাথমিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে। কিন্তু তিনি এমন কেন করলেন, বুঝলাম না। আমি সবাইকে বলে দেব, যেন সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।’









