রাস্তায় প্রতিবেশী এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির উত্ত্যক্তের ভয়ে দুই দিন ধরে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না রংপুরের কাউনিয়ার ১২ বছরের এক এতিম শিশু। স্বজনদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে বিভিন্ন সময় বাজে কথা বলেন ও উত্ত্যক্ত করেন। সর্বশেষ গত শনিবার বাড়ির বাইরে বের হলে শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্ত মিয়ার (৪৫) বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে পুলিশ বলছে, শনিবারের ঘটনাটি মামলা করার মতো নয়। ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলা হয়েছে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারকে।
শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯ বছর আগে শিশুটির বাবা মারা যায়। এরপর মা বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। ওই শিশু ও তার দুই ভাই আশ্রয় নেয় নানির বাড়িতে। নানির কাছে বেড়ে ওঠা শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী মোস্ত মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করছিলেন এবং নানা ধরনের বাজে কথা বলতেন। বিষয়টি তার নানিকে জানায় ওই শিশু। পরে স্বজনেরা মোস্ত মিয়াকে উত্ত্যক্ত না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
স্বজনেরা জানান, গত শনিবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির বাইরে বের হলে মোস্ত মিয়া তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। শিশুটি এর প্রতিবাদ করলে মোস্ত মিয়ার স্বজনেরা শিশুকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটি, তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে। এর পর থেকে আতঙ্কে রয়েছে শিশুটি। রাস্তায় আবারও উত্ত্যক্তের আশঙ্কায় গতকাল রোববার ও আজ সোমবার সে বিদ্যালয়ে যায়নি।
শিশুটির নানি বলেন, ‘শনিবারের ঘটনার পর থেকে আমার নাতনি খুব ভয় পেয়েছে। কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছে না। বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে বসে থাকে। বিদ্যালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছে। দুই দিন ধরে বিদ্যালয়ে যায়নি।’
শিশুর নানি জানান, পুলিশ এসে সবার সঙ্গে কথা বলেছে। তবে থানা থেকে তাঁদের মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মিয়া, সরুজ মিয়াসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, মোস্ত মিয়া শুধু এই শিশুকেই নয়, গ্রামের আরও কয়েকজন শিশুকে উত্ত্যক্ত করেছেন। সামাজিক সম্মান ও লজ্জার কারণে অনেকে এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। তাঁদের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমতে পারে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। সেদিনের ঘটনাটি মামলা করার মতো নয়। তবে ভয়ভীতি বা হুমকি দিলে তাঁদের সাধারণ ডায়েরি করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউনিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ দেয়নি। সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। কাউনিয়া থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলছি।’
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে না থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ছেলে জানান, ঘটনাটি জানার পর সেদিন তাঁর বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। প্রতিবেশী নাতনি হওয়ায় মেয়েটির সঙ্গে তাঁর বাবা মজা করেছিলেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন। ওই দিনের ঘটনার জন্য বাবার পক্ষে মেয়েটির স্বজন ও প্রতিবেশীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত মোস্ত মিয়ার ছেলে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ মো. তারা মিয়ার (১৯) মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ ও বিজিবির পতাকা বৈঠকের পর ভারতীর পুলিশ কুলাউড়া থানা-পুলিশের
৪১ মিনিট আগে
দুর্নীতির আমদানি, নাম তার কমিটি—এমন স্লোগানে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ বন্ধ করে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে
৪৩ মিনিট আগে
রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে কিংবা অন্যের খেতে দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন আব্দুল হালিম। স্ত্রী ও সাত সন্তানকে নিয়ে অন্যের জায়গায় জীর্ণশীর্ণ ঝুপড়িঘরে কাটছিল তাঁর মানবেতর জীবন। কাজ থাকলে খাবার জুটত, না থাকলে নেমে আসত অভাবের অন্ধকার। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কড়ইগড়া কালিকাবাড়ির এই অসহায় পরিবারের জীবন
১ ঘণ্টা আগে
উপজেলায় দুটি সাবস্টেশনের আওতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। এখানে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ২৩ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭ থেকে ১০ মেগাওয়াট।
১ ঘণ্টা আগে