Ajker Patrika

ডিসেম্বরে ফেরার কথা, তার আগেই কফিনে ফিরছেন ট্রোম্যান

নানিয়ারচর (রাঙামাটি)প্রতিনিধি
ডিসেম্বরে ফেরার কথা, তার আগেই কফিনে ফিরছেন ট্রোম্যান
ছেলের ছবি দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ট্রোম্যান খীসার মা গঙ্গাদেবী খীসা। গতকাল দুপুরে রামহরিপাড়ায় তাঁদের বাড়িতে। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাকা ঘর হবে, ঘরে লাগানো হবে ওয়াই-ফাই, কেনা হবে নতুন এলইডি টেলিভিশন—দক্ষিণ সুদানের মিশন শেষে দেশে ফিরে ছেলের এমন স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় ছিলেন মা গঙ্গাদেবী খীসা। সেই অপেক্ষা এখন শুধুই কান্নার। ছেলে ফিরছেন ঠিকই, তবে জীবন্ত নয়; ফিরছে তাঁর কফিনবন্দী নিথর দেহ।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুদানে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা। ডিসেম্বরেই মিশন শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। তাঁর বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের দুর্গম রামহরিপাড়ায়। কিন্তু তার আগেই থেমে গেল জীবন, আর অপূর্ণ রয়ে গেল মাকে দেওয়া সেই স্বপ্নের প্রতিশ্রুতিগুলো। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা গঙ্গাদেবী খীসা। তাঁর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন ট্রোম্যান খীসা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে দক্ষিণ সুদানে যান তিনি। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই মিশন শেষে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। এখন স্বজনদের অপেক্ষা শুধু প্রিয় মানুষটির মরদেহ ছুঁয়ে দেখার।

ট্রোম্যান খীসার বাবা সুবিমল খীসা জানান, প্রতি মাসে পরিবারের বাজার খরচসহ প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য আগাম টাকা পাঠাতেন তাঁর ছেলে। পরিবারের আর্থিক ব্যয়ের বড় অংশই ট্রোম্যান বহন করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের কাছে ট্রোম্যান খীসার সহধর্মিণীর জন্য একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন সুবিমল খীসা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত