Ajker Patrika

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই কলেজে গিয়ে প্রদর্শককে পেটান বিএনপির কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই কলেজে গিয়ে প্রদর্শককে পেটান বিএনপির কর্মী
কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে নারী প্রদর্শককে লাঞ্ছিত করেন বিএনপি নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি গ্রামের বিএনপির কর্মী শাহাদ আলী প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াতেন। তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। এই শাহাদ আলী গত বৃহস্পতিবার দাওকান্দি সরকারি কলেজে গিয়ে নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করেন। এ ছাড়া শাহাদসহ অন্য নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক।

ঘটনার দিন একটি তাফসির মাহফিলের আমন্ত্রণ ও কলেজ মাঠ অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুমতি নিতে কয়েকজন বিএনপির নেতা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁরা মাহফিলের জন্য চাঁদাও চান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আফাজ উদ্দিন, এজদার আলী এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা।

অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে কলেজের প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। আলেয়ার অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্ত শাহাদ আলী তাঁকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং শাহাদ আলী জুতা খুলে ওই নারী প্রদর্শককে মারধর করেন। তাঁকে চুল ধরে টানাহেঁচড়াও করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর শাহাদ আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব ঘটনাস্থলে এসে আবার হামলা চালান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আরও বড় একটি দল কলেজে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও মারধর চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আহত হন এবং পরে তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ঘটনার সময় কলেজে স্নাতক পরীক্ষাও চলছিল। হামলাকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় পুলিশও ছিল। তারপরও শাহাদ আলী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে কলেজে যান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি হিমাগার থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগে শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয় এবং সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানা থাকা অবস্থাতেই তিনি কলেজে ঢোকেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শাহাদ আলী দাবি করেন, আগের দেনা-পাওনার হিসাব করতে গিয়েই তিনি কলেজে যান এবং সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে প্রতিক্রিয়া দেখান।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তা কার্যকরের জন্য পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিনও বলেন, পরোয়ানা থাকলে তা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরদিন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শনিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যানারে নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আব্দুস সামাদ, জয়নাল আবেদীন, আফাজ উদ্দিন ও এজদার আলী উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত শাহাদ আলীকে দেখা যায়নি। তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক পক্ষের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষের আচরণে তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাই অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের অপসারণের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পরে বিকেলে এলাকার লোকজন নিয়ে তাঁরা কলেজের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। সেখান থেকেও একই দাবি জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দূরপাল্লার বাসযাত্রায় নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, কোন রুটে কত বাড়ল

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিত

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

তেলপাম্পে মিছিল নিয়ে এসে ইউএনওর ওপর হামলা, অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত