শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের ক্ষমতার অপব্যবহারের বলি সিরাজগঞ্জের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। কৃষকদের ফসলি জমি দখল করে অবৈধভাবে বালু ভরাট; মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল, জমির ন্যায্যমূল্য না দিয়ে রিসোর্ট নির্মাণ, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখলবাজির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ভয়ে কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি কেউ। তবে ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এমনকি জেলার কামারখন্দ আমলি আদালতে মামলা করেছেন শহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষক। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কামারখন্দ থানা-পুলিশকে নির্দেশ নিয়েছেন আদালত।
পাউবোর একাধিক সূত্র বলছে, একসময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকায় সিরাজগঞ্জ পাউবো অফিসকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করতেন কবির বিন আনোয়ার। পাউবো (বিআরই শাখা) ডিভিশনটি দখল নিতে চালু করেন এতিমখানা। এই এতিমখানায় লেখাপড়া না হলেও ১৯ জন ছাত্র দিয়ে দখলে নেন আবাসিক এলাকাটি।
স্থানীয় ও কৃষক সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন ছিল কবির বিন আনোয়ারের মূল টার্গেট। সেখানে জমি গ্রাস করার বাহানা খুঁজতেন তিনি। মাদ্রাসা স্থাপনের কথা বলে জমি নিয়ে গবাদিপশুর খামার আর তেলের মিল গড়ে তোলেন তিনি। কৃষকদের জমির ন্যায্য ভাড়া না দিয়ে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরে গড়ে তুলেছেন বিশাল রিসোর্ট। তবে ৫ আগস্টের পর রিসোর্টের বিভিন্ন জিনিসপত্র খুলে নিয়ে গেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
কবির বিন আনোয়ারের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ ছাড়া কৃষকদের জমি দখলের ঘটনায় কবির বিন আনোয়ারসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তাঁদের একজন শহিদুল ইসলাম। ওই মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কামারখন্দ উপজেলার উদয় কৃষ্ণপুর ও মুগবেলাই মৌজায় সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী পাকা সরিষাখেতের জমি দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে বালুর বাঁধ নির্মাণ করে। এতে প্রায় অর্ধশত কৃষকের ৩ হাজার ২১২ শতক জমির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মূল্য প্রায় ৭১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। ওই জমিতে আর চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকেরা।
মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার জমি জোর করে দখল করেন সচিব কবির বিন আনোয়ার ও তাঁর লোকজন। জমিতে পাকা সরিষা ছিল। সেগুলো ভেকু মেশিন দিয়ে তুলে ফেলে আমার লাখ লাখ টাকা ক্ষতি করেছে। ওই সময় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ নেয়নি। তাই সরকার পতনের পর মামলা করেছি।’
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের হাটবয়ড়া গ্রামের সুমার আলী বলেন, ‘আমার চার বিঘা জমি আছে। সচিব ও তাঁর লোকজন এসে বলে, জমি আমাদের দরকার। পরে জোর করে চার বিঘা জমি ৫ বছরের কথা বলে নিয়ে নেয়। তারা বলে, জমি আমরা ভাড়া নিলাম। পরে আমাকে ১৫ হাজার টাকা দেয় তারা। যদি জমিতে আবাদ করতাম, তাহলে ৫ বছরে ফসল বিক্রি করে লাভবান হতাম ৪-৫ লাখ টাকা। এখন আমার জমি ফেরত চাই।’
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের মাধবপুর চরের জহির বলেন, ‘৭ বিঘা জমিতে কালাই বুনছিলাম। আমাকে ৫ হাজার টাকা দিছে। কালাই বেইচে দেড় লাখ টাকা ইনকাম করতাম। সচিব সাব ও গ্রামের মাতবররা মিইল্যা এই কাম করছে। আমি ট্যাকা নিতে চাই নাই। জোর কইরে দিছে। জমি আর দিমু না। ফেরত নিমু।’
মামলার বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মামলাটি ক্রিটিক্যাল। আমরা তদন্ত করছি। কতজন কৃষকের জমির ওপর বালু ফেলা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে সময় লাগবে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তদন্তকাজ শেষ করা হবে।’
তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কবির বিন আনোয়ার গা ঢাকা দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের ক্ষমতার অপব্যবহারের বলি সিরাজগঞ্জের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। কৃষকদের ফসলি জমি দখল করে অবৈধভাবে বালু ভরাট; মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল, জমির ন্যায্যমূল্য না দিয়ে রিসোর্ট নির্মাণ, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখলবাজির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ভয়ে কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি কেউ। তবে ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এমনকি জেলার কামারখন্দ আমলি আদালতে মামলা করেছেন শহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষক। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কামারখন্দ থানা-পুলিশকে নির্দেশ নিয়েছেন আদালত।
পাউবোর একাধিক সূত্র বলছে, একসময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকায় সিরাজগঞ্জ পাউবো অফিসকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করতেন কবির বিন আনোয়ার। পাউবো (বিআরই শাখা) ডিভিশনটি দখল নিতে চালু করেন এতিমখানা। এই এতিমখানায় লেখাপড়া না হলেও ১৯ জন ছাত্র দিয়ে দখলে নেন আবাসিক এলাকাটি।
স্থানীয় ও কৃষক সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন ছিল কবির বিন আনোয়ারের মূল টার্গেট। সেখানে জমি গ্রাস করার বাহানা খুঁজতেন তিনি। মাদ্রাসা স্থাপনের কথা বলে জমি নিয়ে গবাদিপশুর খামার আর তেলের মিল গড়ে তোলেন তিনি। কৃষকদের জমির ন্যায্য ভাড়া না দিয়ে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরে গড়ে তুলেছেন বিশাল রিসোর্ট। তবে ৫ আগস্টের পর রিসোর্টের বিভিন্ন জিনিসপত্র খুলে নিয়ে গেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
কবির বিন আনোয়ারের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ ছাড়া কৃষকদের জমি দখলের ঘটনায় কবির বিন আনোয়ারসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তাঁদের একজন শহিদুল ইসলাম। ওই মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কামারখন্দ উপজেলার উদয় কৃষ্ণপুর ও মুগবেলাই মৌজায় সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী পাকা সরিষাখেতের জমি দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে বালুর বাঁধ নির্মাণ করে। এতে প্রায় অর্ধশত কৃষকের ৩ হাজার ২১২ শতক জমির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মূল্য প্রায় ৭১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। ওই জমিতে আর চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকেরা।
মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার জমি জোর করে দখল করেন সচিব কবির বিন আনোয়ার ও তাঁর লোকজন। জমিতে পাকা সরিষা ছিল। সেগুলো ভেকু মেশিন দিয়ে তুলে ফেলে আমার লাখ লাখ টাকা ক্ষতি করেছে। ওই সময় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ নেয়নি। তাই সরকার পতনের পর মামলা করেছি।’
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের হাটবয়ড়া গ্রামের সুমার আলী বলেন, ‘আমার চার বিঘা জমি আছে। সচিব ও তাঁর লোকজন এসে বলে, জমি আমাদের দরকার। পরে জোর করে চার বিঘা জমি ৫ বছরের কথা বলে নিয়ে নেয়। তারা বলে, জমি আমরা ভাড়া নিলাম। পরে আমাকে ১৫ হাজার টাকা দেয় তারা। যদি জমিতে আবাদ করতাম, তাহলে ৫ বছরে ফসল বিক্রি করে লাভবান হতাম ৪-৫ লাখ টাকা। এখন আমার জমি ফেরত চাই।’
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের মাধবপুর চরের জহির বলেন, ‘৭ বিঘা জমিতে কালাই বুনছিলাম। আমাকে ৫ হাজার টাকা দিছে। কালাই বেইচে দেড় লাখ টাকা ইনকাম করতাম। সচিব সাব ও গ্রামের মাতবররা মিইল্যা এই কাম করছে। আমি ট্যাকা নিতে চাই নাই। জোর কইরে দিছে। জমি আর দিমু না। ফেরত নিমু।’
মামলার বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মামলাটি ক্রিটিক্যাল। আমরা তদন্ত করছি। কতজন কৃষকের জমির ওপর বালু ফেলা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে সময় লাগবে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তদন্তকাজ শেষ করা হবে।’
তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কবির বিন আনোয়ার গা ঢাকা দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে আছেন ১০ প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে বার্ষিক আয়ে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান। আর সম্পদে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের শ্রীপুরে সদ্য বিদায়ী বছরে অন্তত ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে ৪২টি। ৭০টি অপমৃত্যুর মামলা করাসহ ১১০ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শ্রীপুর থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
পাবনার সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন গণশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ এখানে প্রস্রাব করার পাশাপাশি বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠানটিকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের আবাসস্
৬ ঘণ্টা আগে
সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়েছিল বাঘটি। বন বিভাগের কর্মীরা গতকাল রোববার ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন অবস্থায় বাঘটিকে উদ্ধার করেছেন। এরপর চিকিৎসার জন্য বাঘটিকে খুলনায় নিয়ে আসা হয়েছে খাঁচায় ভরে।
৭ ঘণ্টা আগে