Ajker Patrika

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

সিলেট প্রতিনিধি
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে তাঁরা এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করা আটজন নির্বাচন কমিশনারের প্রতি নিন্দা জানান তাঁরা। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আগামীকাল সকালে প্রেস কনফারেন্স করে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবেন তাঁরা।

এর আগে গত সোমবার শাকসু নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিত হাওয়ায় দিনব্যাপী আন্দোলন ও উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ রেজিস্ট্রারদের ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখেন শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে হলগুলোর দিকে যান। মিছিল শেষে তাঁরা আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলছিল।

আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম প্রশাসনিক ভবনে তাঁর কার্যালয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘দালাল দালাল’ স্লোগান দেন। এ রকম একটি ভিডিও শাকসু নির্বাচনের কমিশন থেকে পদত্যাগ করা বিএনপির আট নির্বাচন কমিশনারের একজন মোহাম্মদ মনজুরুল হায়দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে লিখেন, ‘সকল বেয়াদবির বিচার একদিন হতে হবে।’ এর আগে গতকাল সোমবার তিনিসহ বিএনপিপন্থী আটজন নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেন।

আজ সন্ধ্যায় শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ২০ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শাকসু নির্বাচন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার হাইকোর্ট একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তী সময় চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা হয়, যা আদালতে প্রক্রিয়াধীন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও আজ শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্ত ও শাকসু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপাচার্য কর্তৃক ঘোষিত তারিখে শাকসু নির্বাচন কমিশন শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আজ দুপুরে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে ২২ তারিখ থেকে শাকসু আয়োজনের সুযোগ নেই। তাই আজকে যদি চেম্বার শুনানি না হয়, তাহলে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। কোনো কারণে যদি শাকসু নির্বাচন না হয়, এর ভয়াবহতা এ ক্যাম্পাস ছাড়াও জাতীয় অঙ্গনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

আজ সারা দিন শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন। অবস্থান কর্মসূচির সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাকসু নির্বাচনে আরেক ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির। তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার হরণ করার প্রথম স্টেজ হচ্ছে শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা। শাকসু নির্বাচনের প্রধান সংকট হচ্ছে এখন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের মামলার গ্রাউন্ড স্ট্রং আছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যদি আবেদন গ্রহণ করা হয়, তাহলে রায় আমাদের পক্ষে আসবে। এ ছাড়া আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, সর্বোচ্চ মহল থেকে এই মামলা আদালতে না তোলার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, একটি দলের ইউনিট থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত মিডিয়ার সামনে বলেছেন, ছাত্র সংসদ বন্ধ করার ব্যাপারে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের বড় বড় আইনজীবী থাকার কারণে আমাদের ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে পেরেছেন। সে জায়গায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাড়া আর কেউ নেই। আমাদের উপাচার্য স্যার সর্বোচ্চ জায়গা থেকে চেষ্টা করছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য যে মাধ্যম ব্যবহার করা দরকার, তা ব্যবহারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও আমাদের দাবি রক্ষা করা যায়।’

শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। চেম্বার জজ আদালত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে বা বিপক্ষে একটা রায় দিলে তখন একটা ফাইনাল জায়গায় আমরা যেতে পারি। এখন একটা ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। নির্বাচনের পক্ষে রায় আসলে নির্বাচন হবে, আর না আসলে চার সপ্তাহ পরে হবে। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা নেই। যেকোনো সময় আমরা নির্বাচন দিতে পারব। এখন শুধু রায়ের জন্য অপেক্ষা।’

এদিকে শাকসু নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সিলেটের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির। সিলেটের এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, মদনমোহন কলেজ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত