Ajker Patrika

দখলমুক্তের দুই মাসের মধ্যে আবারও দোকানপাট-গাড়িতে দখল সেতুটি, জন চলাচলে দুর্ভোগ

মিজান মাহী, দুর্গাপুর (রাজশাহী)  
দখলমুক্তের দুই মাসের মধ্যে আবারও দোকানপাট-গাড়িতে দখল সেতুটি, জন চলাচলে দুর্ভোগ
হোজা নদীর ওপর সেতুটির ফুটপাত এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর দুর্গাপুর সদরে পদ্মার শাখা হোজা নদীর ওপর সেতুটির ফুটপাত দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধারের দুই মাসের মধ্যে আবারও সেখানে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট ও গাড়ি পার্কিং শুরু হয়েছে অবৈধভাবে। এতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পথচারীদের মধ্যে।

এর আগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল সেতুর ওপর সব ধরনের দোকানপাট ও পার্কিং অবৈধ বলে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় প্রশাসন। এরপরও সরানো যায়নি অবৈধ দোকানপাট। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পথচারীদের চাপের মুখে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেতুটি দখল মুক্ত করেন। তবে সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি।

গতকাল রোববার সকালে সরেজমিন হোজা নদীর সেতুর ওপর গিয়ে দেখা যায়, নদীর দুই পাশে সাইনবোর্ড টানানো আছে ঠিকই। কিন্তু সেই সাইনবোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেতুর ফুটপাতের ওপর চলছে সবজি, পেয়ারা, কলা, ডাব, ফল, শরবত ও ভাজাপোড়ার দোকান। সেতুর দুই পাশে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি ভ্রাম্যমাণ দোকান রয়েছে। সেগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। সঙ্গে তিন চাকার ভ্যানগাড়ি ও অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ড। এ অবস্থায় যাত্রী চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাত্র দুই মাসের মাথায় সেতুটি আবার দখল হয়ে গেছে। আবারও সেতুটি পথচারীদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলমুক্ত করতে স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা।

সদর বাজারে সবজি বিক্রি করতে যাওয়া মোহাম্মাদ আলী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, অনেক কষ্ট করে দখলমুক্ত করা হলেও আবার দখলে একাকার হয়েছে সেতুটি। সেতুর দুই ধারে দোকানপাট হওয়ায় বাজারে প্রবেশ করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় বেশি লাগে। এটা খুব বিরক্তকর। ভবিষ্যতে আর দখলমুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

হোজা নদীর ওপর সেতুটির ফুটপাত এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে। ছবি: আজকের পত্রিকা
হোজা নদীর ওপর সেতুটির ফুটপাত এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সেতুর ওপর শরবত বিক্রেতা মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন প্রশাসনের চাপে সেতুর ওপর উঠতে পারিনি। এখন দেখছি সবাই আগের মতো ব্যবসা করছে। তাদের দেখে আমিও বসেছি। দুই পাশে থেকে লোকজন এসে সেতুর ওপর নামে। ফলে সেতুর ওপর কেনাবেচা ভালো হয়।’

রাইসুল নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, ‘সেতুর ওপরে ফুটপাত বসার কারণে উপজেলা মোড় থেকে জিয়া চত্বর মোড় পর্যন্ত ব্যাপক জ্যামের সৃষ্টি হয়। ফলে স্কুলের ক্লাসে যেতে দেরি হয়। কিছুদিন সেতুটি দখলমুক্ত ছিল। এখন আবার দখল হয়ে গেছে। প্রশাসনও নীরব রয়েছে। ফলে অফিসগামী লোকজন, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: নিবন্ধনের বদলে সরাসরি পরীক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে (দ্বিতীয় পর্ব)

ইরান যুদ্ধে নিহত সর্বকনিষ্ঠ কুর্দি নারী যোদ্ধা গজল মোলান

সিনেমা হলে হঠাৎ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার তরুণ-তরুণী, কেন

সিটি ও আন্তজেলা বাসে ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর আলোচনা, সিদ্ধান্ত কাল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত