Ajker Patrika

রাজশাহী-৩: চেয়ারম্যান-মেম্বারদের হাতে ভোটের ‘চাবি’

  • এর আগে আসনটি বারবার আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দখলেই থেকেছে।
  • এবার হিসাব পাল্টে দিতে পারেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩৬
রাজশাহী-৩: চেয়ারম্যান-মেম্বারদের হাতে ভোটের ‘চাবি’

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ভোটের হিসাব সহজ। আসনটি বারবার আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দখলেই থেকেছে। এবার ব্যালটে নৌকা নেই। তাই এই আসনে এবার বিএনপির প্রার্থীর জন্য বড় সুযোগ মনে করছেন ভোটাররা। তবে বলা হচ্ছে, এবার এই আসনের ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা (মেম্বার)।

জানা গেছে, আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ১৯৯ জন। তাঁদের সামনে প্রার্থী ছয়জন। এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের।

এ ছাড়া প্রচার শুরুর পর প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ভোটের মাঠে আসা মোহনপুর উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবা বেগমও আছেন আলোচনায়। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীও পেতে পারেন কিছু ভোট। ২০২৪ সালের মে মাসে হাবিবা বেগম প্রায় ৪৩ হাজার ভোট পেয়ে মোহনপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে ভোট দিতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

তবে ভোটের মাঠে বিকল্প হিসাবও সামনে আছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ একটানা ২৮ বছর পবার হড়গ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরপর পাঁচবার তিনি এ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আবুল কালাম বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। দুই উপজেলার প্রায় সব সাবেক চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা আওয়ামী লীগ করলেও তাঁদের সঙ্গে ছিল তাঁর সুসম্পর্ক।

গত ২৮ জানুয়ারি দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পারিলা ইউনিয়নের কালুমেড় এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সেদিন তাঁর সঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদকেও দেখা যায়। সাঈদ আলী আওয়ামী লীগ করতেন। তবে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। যদিও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। তাঁকে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে তো জামায়াত-শিবিরই ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে।’

জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা তো কেউ এলাকায় নেই। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে না, মোবাইল বন্ধ। দু-একজনকে হয়তো পাওয়া যাবে। সুযোগ পেলে তাঁরা আমারই কাজ করবেন, ইনশা আল্লাহ। পুরোনো চেয়ারম্যান যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এলাকায় আছেন এবং আমার জন্য কাজ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা চান আমি এমপি নির্বাচিত হই এবং স্থানীয় সরকার নিয়ে কিছু কাজ করি। সবাই স্থানীয় সরকার বিভাগ নিয়ে বড় বড় কথা বলেন; কিন্তু কিছু করেন না। আমি মন্ত্রী না হলেও যদি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হই, এ বিষয়ে কাজ করতে পারব বলে তাঁরা মনে করেন।’

এ দিকে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, পবা-মোহনপুরের সবখানেই রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। মানুষ বলছে, তারা ভোট দেবে; কিন্তু রাস্তাটা করে দিতে হবে। জামায়াতের প্রার্থী দীর্ঘদিন হড়গ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু নিজের এলাকারই উন্নয়ন করতে পারেননি। তাঁকে দিয়ে দুই উপজেলার উন্নয়ন হবে, এটি মানুষ বিশ্বাস করে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক নিয়ে যা বলল সেনাবাহিনী

আগুন দিয়েছে মামুন, কাঠ দিয়েছে জুয়েল: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এসআই মালেক

মিরপুরে বাসা থেকে দুই সন্তানসহ বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যুদ্ধে যেভাবে জেতার পরিকল্পনা করছে ইরান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত