Ajker Patrika

নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির পর ২৭ প্যাকেট ফেরত

নেছারাবাদ প্রতিনিধি (পিরোজপুর) 
নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির পর ২৭ প্যাকেট ফেরত
নেছারাবাদে ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ইনসেটে অভিযুক্ত নাদিম)। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ২৭ প্যাকেট ফেরত দিয়েছেন অভিযুক্ত তিন যুবক। বাকি তিন প্যাকেট দুধ তাঁরা খেয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই দুধ ফেরত দেন অভিযুক্ত মো. নাদিম মাহমুদ ও তাঁর দুই সহযোগী।

এদিকে দুধ চুরির ঘটনা জানার পরও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ আশা জানান, গত শুক্রবার বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আসেন। তাঁদের আপ্যায়ন ও বসার ব্যবস্থা করতে শিক্ষকেরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা শিক্ষার্থীদের দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।

তাঁর দাবি, নাদিমসহ তিন যুবক লাইব্রেরি থেকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার সকালে তাঁরা বিদ্যালয়ে এসে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন। বাকি তিন প্যাকেট তাঁরা খেয়ে ফেলেছেন।

তবে দুধ চুরির অভিযোগ পুরোপুরি স্বীকার করেননি নাদিম মাহমুদ। তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু স্কুল থেকে তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছেন। ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়ার বিষয়টি পরে জানতে পেরেছেন। খবর পেয়ে বুধবার সকালে স্কুলে এসে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার বিন্নায় নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা করতে বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়। অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকেরা ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নাদিম ও তাঁর দুই বন্ধু নিয়ে যান বলে তিনি জানান। বুধবার সকালে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ঘটনার পর শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও কয়েক দিনেও শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা এরই মধ্যে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত