Ajker Patrika

বিদ্যালয়ের অফিসে শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের স্বামীর বিরুদ্ধে

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ের অফিসে শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের স্বামীর বিরুদ্ধে
নৈয়ারীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে এক সহকারী শিক্ষককে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বামী ছাদরুল আলমের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাদরুল আলম দাবি করেছেন, তাঁকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আজ বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন। এর আগে গত রোববার বিকেলে উপজেলার নৈয়ারীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাদরুল আলম ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জীবন নাহারের স্বামী। অভিযোগকারী মো. নাজিম উদ্দিন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জীবন নাহারসহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক অবস্থান করছিলেন। ৪টার দিকে ছাদরুল আলম সেখানে প্রবেশ করে শিক্ষকদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে অশালীন মন্তব্য করেন। এ সময় এর প্রতিবাদ করলে তিনি সহকারী শিক্ষক নাজিম উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সহকারী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে কোনো শিক্ষককে অপমান বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠা অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে সম্প্রতি শিক্ষক নাজিম উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বামী ছাদরুল আলমের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ দাবির বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাদরুল আলম বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’ তবে তিনি তাঁর স্ত্রীকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে দিয়ে আসেন এবং নিয়ে যান বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেলিমা আক্তার খাতুন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত