Ajker Patrika

সরকারি অফিস

৯টার পরও অফিসে তালা, কর্মকর্তা অনুপস্থিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
৯টার পরও অফিসে তালা, কর্মকর্তা অনুপস্থিত
পটুয়াখালী কৃষি অফিস। ছবি: আজকের পত্রিকা

পটুয়াখালী সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে না আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেবা প্রার্থী অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টা পেরিয়ে গেলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা অফিসে আসেননি। একাধিক কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অনেক দপ্তরে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এ ছাড়া সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর আলোকে প্রণীত সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। তবে মাঠপর্যায়ে এ বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।

সরেজমিনে সকাল ১০টার পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সমবায় অফিস, সমাজসেবা অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, মৎস্য অফিস ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

বেশির ভাগ দপ্তরে নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহানাজ বেগম শিল্পীর উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। তিনি অফিসে না এসে দাবি করেন, তিনি জেলা কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। তবে জেলা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেখানে নেই। পরে উপজেলা অফিসে যোগাযোগ করলে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন। তবে ছুটির কোনো লিখিত কাগজপত্র বা বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

একই চিত্র দেখা গেছে জেলা পর্যায়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কর্মকর্তাদের দেখা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দূর-দুরান্ত থেকে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ না হওয়ায় সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় হচ্ছে। অনেক সময় কর্মকর্তারা দেরিতে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেন অথবা নতুন তারিখ দিয়ে দেন, ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান বলেন, কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির কঠোর প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সেবামুখী প্রশাসন গড়তে সময়ানুবর্তিতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের কোনো বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাওলাদার বলেন, অফিসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই অফিস করবে এটাই নিয়ম। তবে অনেকের জেলা কিংবা বরিশালে মিটিং থাকে অথবা ফিল্ডে কাজ থাকে। কিন্তু এর বাইরের যারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে থাকবে না তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গভর্নর আহসান মনসুর বেরিয়ে যাওয়ার পর বের করে দেওয়া হলো তাঁর উপদেষ্টাকেও

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের পরিচয় ও যোগ্যতা

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে

আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন দেওয়ায় এজলাসে বিশৃঙ্খলা, বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা গ্রেপ্তার

মৃত্যুর আগপর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত