Ajker Patrika

চাটমোহরে টেন্ডার ঘিরে সংঘর্ষ: বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

পাবনা ও চাটমোহর প্রতিনিধি
চাটমোহরে টেন্ডার ঘিরে সংঘর্ষ: বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
পাবনার চাটমোহর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জামায়াত নেতাকে মারধর করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার চাটমোহরে হাট-বাজার ইজারার দরপত্র (টেন্ডার) দাখিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান সাচ্চুকে প্রধান আসামি করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৯ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াতে ইসলামীর চাটমোহর উপজেলা শাখার আমির মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে উপজেলা ও পৌর জামায়াতের নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের আহ্বানে বৃহস্পতিবার হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষ দিন ছিল। বেলা ৩টায় জমা পড়া টেন্ডারের বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। ওই দিন দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান এবং নির্ধারিত বাক্সে তা জমা দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

ঘটনার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, এর কিছুক্ষণ পর ব্যক্তিগত কাজ শেষে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপরও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। তাঁরা তাঁকে মারধর শুরু করলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিএনপির এক নেতার সহায়তায় হাবিব সেখান থেকে সরে যান। এ ঘটনায় পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন আহত হন।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার দাখিল করেছেন, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমি জানতামও না। আমি ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সবাই আমার ওপর হামলা করেন। জামায়াত নেতারা আলোচনা-পরামর্শ শেষে থানায় মামলা করেছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু বলেন, ‘মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক। ঘটনার সঙ্গে হাট-বাজার ইজারা নেওয়া লোকজন জড়িত। বিএনপির কেউ জড়িত নন। বরং আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও হামলাকারীদের হাত থেকে ভুক্তভোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। জামায়াতের মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এদিকে বৃহস্পতিবার ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার। একই সঙ্গে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মারপিটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত