ভারত থেকে আনা ১৮ রেলকোচের পরীক্ষামূলক চলাচল আগামী সপ্তাহে

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানায় ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় শেষ। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই এসব কোচের পরীক্ষামূলক চলাচল সম্পন্ন হবে। এরপর সেগুলো রেলের পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কারখানা কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়াগন শপ ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় প্রকৌশলীরা কারখানার প্রকৌশলী ও কারিগরদের সঙ্গে নিয়ে কোচগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত। কোচগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা (ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন) বেশ আধুনিক। আসনগুলোতে রয়েছে ফোল্ডিং ব্যবস্থা। কোচগুলোতে সুসংহত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা ও যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, রেলওয়ে কারখানায় আনা এ কোচগুলোকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কাজে রেল কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ইতিমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় শেষের পথে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই কোচগুলোর ট্রায়াল রানের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রায়াল রান সফল হলে সেগুলো ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।
রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে ভারত থেকে আসা প্রথম চালানের ১৮টি কোচ সৈয়দপুর কারখানায় পৌঁছায়। এরপর সেখানে বিশেষ ডিপ্রসেসিং, যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং কাজ শুরু হয়, ইতিমধ্যে যা শেষের পথে। আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও ক্রু ক্র্যাফটের সহায়তায় সফলভাবে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক চলাচল সম্পন্ন করা হবে। সব ধরনের কারিগরি মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যা যা বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে কোচগুলোতে
কারখানা ও এর সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কোচগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা (ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন) বেশ আধুনিক। ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি এই কোচগুলোতে অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক ও অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের সময় কোচগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাবে না। পুরোনো স্ক্রু কাপলিং ব্যবস্থার বদলে উন্নত সিবিসি কাপলিং থাকায় কোচগুলোতে ঝাঁকুনি অনেক কম হবে এবং ভ্রমণ হবে আরামদায়ক। এসব কোচে শিশুদের ভ্রমণের সুবিধার্থে রয়েছে আলাদা শিশু পরিচর্যা বা বেবি কেয়ার রুম।
আসনগুলোতে রয়েছে ফোল্ডিং ব্যবস্থা। কোচগুলোতে সুসংহত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা ও যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম রয়েছে।
যাত্রীদের ধর্মীয় প্রয়োজনে কোচে নামাজের স্থান বা প্রার্থনাকক্ষ হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের রেলপথে যাতায়াতের অতীত বাস্তবতার আলোকে ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত ওজন বহনের উপযোগী করে কাঠামোগতভাবে শক্তি বাড়ানো হয়েছে কোচগুলোতে।









