Ajker Patrika

ডিমলায় মহাসড়কে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
ডিমলায় মহাসড়কে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই
আহত ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমান ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রংপুর-ডালিয়া মহাসড়কের সোনাখুলী স্লুইস গেট এলাকায় এক ভুট্টা ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে গুরুতর আহত করার পর তাঁর কাছ থেকে নগদ ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমান (৪৫) বর্তমানে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামিয়ার রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবসায়িক কাজে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে বাড়ি থেকে জলঢাকা উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন। কাজ শেষে রাতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সোনাখুলী স্লুইস গেট এলাকায় পৌঁছালে চারটি মোটরসাইকেলে আসা আটজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁর গতিরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা জামিয়ার রহমানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাঁর কাছে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা লুট করে নেয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন।

খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত তাঁকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আহত ব্যবসায়ীর ভাতিজা সজীব ইসলাম বলেন, ‘চাচা দীর্ঘদিন ধরে ভুট্টার ব্যবসা করছেন। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চারটি মোটরসাইকেলে আটজন ডাকাত এসে চাচার ওপর হামলা করে এবং ২০ লাখ টাকা নিয়ে যায়।’

স্থানীয় সাংবাদিক মামুন ইসলামসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে একই এলাকায় শতাধিক ট্রাক ও মাইক্রোবাস আটকে চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ৩৫টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। একই স্থানে তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন মাস আগের ওই ঘটনার পর ডিমলা থানা-পুলিশ যদি ওই পয়েন্টে নিয়মিত টহল বা কার্যকর ব্যবস্থা নিত, তবে এত দ্রুত একই স্থানে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না। পুলিশের উদাসীনতার কারণেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত