Ajker Patrika

সড়ক সংস্কারে অনিয়ম উঠে যাচ্ছে পিচ

সাইফুল আরিফ জুয়েল, নেত্রকোনা 
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭: ৫৩
সড়ক সংস্কারে অনিয়ম উঠে যাচ্ছে পিচ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সদর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকায় টান দিলেই সড়কের পিচঢালাই উঠে যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটারের সড়ক পিচঢালাইয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ দিন আগে করা পিচঢালাই হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের সংস্কার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ১ হাজার ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সংস্কারে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

নিম্নমানের কাজের অভিযোগের বিষয়ে গত শনিবার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, এক যুবক হাত দিয়ে অনায়াসে তুলে ফেলছেন সড়কের পিচ। এই অবস্থা দেখে আশপাশের অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। উপস্থিত লোকজন নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি কাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী। তবে কাজ নিয়ে অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দে সড়কটি সংস্কারের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস। যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্টে। পিচঢালাইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হাটবাজার—সব জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আমরা এত দিন অবহেলিত ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন। মাত্র পাঁচ দিন হলো পিচঢালাই করেছে, এখন হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে।’

তাজ্জত আলী নামের অপর একজন বলেন, ‘নামমাত্র বিটুমিন দিয়েই সংস্কারকাজ সেরেছে ঠিকাদার। এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।’

চারিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এমন রাস্তা চাই না। এই রাস্তা এক মাসও টিকবে না।’

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাসের স্বত্বাধিকারী তাজ উদ্দিন ফরাসের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এলজিইডির দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কার্পেটিং কাজের শুরুর পরদিনই সমস্যা দেখে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে যথাযথভাবে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার জন্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা আজকের পত্রিকা বলেন, ‘সড়কের কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত