Ajker Patrika

মোহনগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ‘গড়িমসি’

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
মোহনগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ‘গড়িমসি’
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্ট করছেন ধর্ষণ মামলার আসামি মহন। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহন তালুকদারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, মহন কোনো ডিভাইস বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, তাই তাঁকে ‘ট্র্যাক’ করা যাচ্ছে না। অথচ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্ট করে যাচ্ছন মহন।

অভিযুক্ত মহন তালুকদার (২৫) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা করার সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মহন তালুকদারের ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সারা দিন তিনি ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন। নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। সকালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে একটি পোস্টও দেন। গত মে মাসজুড়ে তিনি অসংখ্য পোস্ট করেছেন। চলতি জুন মাসেও নিয়মিত ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ—ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে ওই শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।

চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ও তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। পরদিন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে।

পরে গত ২৮ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মহন তালুকদারের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর গত ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার পরপরই মহন তালুকদার আত্মগোপনে চলে যান।

মামলার দেড় মাস পরও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। শিশুটির মা বলেন, ‘পুলিশ আসামিকে খুঁজে পায় না। পুলিশ আমাদের বলে আসামিকে খুঁজে বের করে দিতে। পরে তারা ধরবে।’

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন সাংবাদিকদের জানান, মামলার পরপরই মহন আত্মগোপনে চলে গেছেন। কোনো ধরনের ডিভাইস বা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

অভিযুক্ত মহনের ফেসবুক ব্যবহার বিষয়ে জানতে চাইলে আজ ওসি বলেন, ‘আজকাল অনেক অ্যাপ বের হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করলে অবস্থান নির্ণয় করা যায় না। তিনি সম্ভবত এমন কোনো অ্যাপ ব্যবহার করছেন। তবে তাঁর ফেসবুক লিংক আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় আনতে পারব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত