Ajker Patrika

দুর্গাপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাচার ঘরে ডাকাতি, আটক ৩

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
দুর্গাপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাচার ঘরে ডাকাতি, আটক ৩
পুলিশের অভিযানে ডাকাত দলের তিন সদস্য আটক। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গভীর রাতে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়ির লোকজনের হাত-পা বেঁধে প্রায় ৩ লাখ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও জামাকাপড় লুট করে নিয়ে যায়। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মিপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ওয়াদুদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে।

আটকরা ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার রাজ কুমার (২৬), জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার দিঘিরচর মুল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ (৪৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ছরনাল গ্রামের শাহীন আলম (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে প্রতিদিনের মতো খাওয়াদাওয়া শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে হঠাৎ দরজায় ডাক শুনে বাইরে বের হন সিদ্দিকুর রহমান ওয়াদুদ। এ সময় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ছয় সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে মাদক বিক্রি ও জাল টাকার ব্যবসার অভিযোগ তুলে নানা কথাবার্তার ছলে পরিবারের সবাইকে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।

ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে থানা-পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার শিধলী এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে।

ওয়াদুদের স্ত্রী নূর জাহান বেগম বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার দেবরের ছেলেও ছিল ডাকাত দলের সঙ্গে। সে ঘরের ভেতরে ঢোকেনি, কিন্তু পালানোর সময় আশপাশের মানুষ দেখেছে।’

ভুক্তভোগী পাভেল মিয়া বলেন, ‘আমাকে আর বাবাকে একসঙ্গে বেঁধে রাখে ডাকাত দল। আম্মা ও আমার স্ত্রীকে অন্য একটি ঘরে আটকে রেখে ঘরের সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। ঘরে ঢুকেই তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন।’

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা অভিযান শুরু করি। লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোন সচল ছিল। সেটির সর্বশেষ লোকেশন ট্র্যাকিং করে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়।

শাকের আহমেদ আরও বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—ভুক্তভোগীদের আপন ভাতিজাই এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। বিয়ে বাড়ির কথা বলে ডাকাতদের পাঁচ হাজার টাকায় কন্ট্রাক্টে আনা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত