
নাটোরের বড়াইগ্রামে সরকারি খাদ্যগুদামে গত ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে চলতি মৌসুমের সরকারি গম সংগ্রহ অভিযান। কিন্তু পুরো ক্রয় মৌসুমে এক ছটাকও গম সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। এতে স্বল্প আয়ে চলা মানুষের কাছে কম দামে চাল ও আটার মতো খাবার পৌঁছে দেওয়া ওএমএস (খোলাবাজারে বিক্রি) কার্যক্রম নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু এবারই নয়, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও গম সংগ্রহের চিত্র ছিল একই রকম। খোলাবাজারের সঙ্গে সরকারি দরের তারতম্যের কারণে ওই সময়ে এক কেজিও গম কিনতে পারেননি গুদামের কর্মকর্তারা। ফলে টানা চার বছর ধরে বড়াইগ্রামে সরকারি গম সংগ্রহের ঝুলি শূন্যতেই আটকে রয়েছে।
উপজেলা খাদ্য বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে থেকে গম ক্রয় মৌসুমে ৮২০ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কেনাবেচা শুরু হয়। উপজেলার কৃষকেরা গম উৎপাদন করলেও সরকারি গুদামে তাঁরা গম দেননি। এই চিত্র শুধু এ বছরই নয়, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও গম সংগ্রহের চিত্র ছিল একই রকম। গত বছরের চেয়ে কেজিতে ২ টাকা বাড়িয়ে এবার প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দর নির্ধারণ করা হলেও জটিল নিয়মনীতি ও খোলাবাজারের চেয়ে খাদ্যগুদামে দাম কম হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন চাষিরা। অথচ ৫০০ টন বোরো ধান এবং ৯ হাজার ২৩৮ টন চাল সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে শতভাগ অর্জিত হয়েছে।
কৃষক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে প্রতি মণ গম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়; যা সরকারি দরের চেয়ে প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি। এ ছাড়া সরকারি শর্তের জটিলতা, আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতার নিয়মকে দায়ী করছেন তাঁরা। অন্যদিকে বাজারে ১৮ শতাংশ আর্দ্রতা থাকলেও ব্যবসায়ীরা অনায়াসে গম কিনে নিচ্ছেন।
মহসিন নামের এক কৃষক বলেন, গুদামে গম নিয়ে গেলে গাড়িভাড়া, কুলি খরচ ও পরিমাপের ঝামেলার পেছনে মণপ্রতি আরও বাড়তি ৫০-৬০ টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই লোকসান এবং হয়রানি এড়াতে সাধারণ কৃষকেরা খোলাবাজারেই গম বিক্রি করছেন।
ঢুলিয়া গ্রামের গমচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভালো দামে নগদ টাকায় বিক্রি করা যায়। গুদামে যদি বাজারের চেয়ে মণপ্রতি এক-দেড় শ টাকা বাড়তি দাম দেওয়া হতো, তবে কৃষকেরা অবশ্যই সরকারি গুদামে যেতেন।’
প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই গম মিলের মাধ্যমে আটা বানিয়ে স্বল্প আয়ে চলা মানুষের কাছে কম দামে চাল ও আটার মতো খাবার পৌঁছে দেওয়া (ওএমএস বা খোলাবাজারে বিক্রি) হতো। সরকারিভাবে গম সংগ্রহ না করায় এই কার্যক্রম নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বনপাড়া বাজারের গম ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন জানান, এক-দেড় মাস আগেও যখন বাজারে গমের দাম প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ টাকা ছিল, খাদ্য বিভাগ চাইলে তখন গম সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে পারত।
খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা পারভীন বিথী বলেন, ‘সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের নির্ধারিত দাম ৩৬ টাকা, যা খোলাবাজারের চেয়ে ৫-৬ টাকা কম। তাই কৃষকেরা গুদামে গম দেননি।’
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কাজী ডালিম বলেন, ‘সরকারি দরের চেয়ে খোলাবাজারে দাম বেশি পাওয়ায় চাষিরা গুদামে গম বিক্রি করেননি। তবে অনলাইনে অ্যাপের মাধ্যমে সফলভাবে ৩৬৭ জন নিবন্ধিত কৃষকের মধ্যে ১৬৭ জনের কাছ থেকে ধান এবং চুক্তিবদ্ধ ৮টি অটো মিল এবং ২২টি হাস্কিং মিল থেকে চাল সংগ্রহ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে।’
উপজেলা গম, ধান ও চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, টানা চার বছর ধরে উপজেলায় গম সংগ্রহের এই ব্যর্থতা, বাজারের প্রকৃত চিত্রসহ আগামীতে বাস্তবসম্মত দর নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে ৫২টি অনুমোদিত পদের ৪২টিই শূন্য। সবচেয়ে বড় সংকট হলো খামারটি প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরেও ভেটেরিনারি সার্জনের কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি। এতে খামারের মহিষের স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
৪৪ মিনিট আগে
একসময় সন্ধ্যা নামলে যে সড়কে থেমে যেত মানুষের চলাচল। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের ভয়ে অন্ধকার নামার আগেই দোকানপাট গুটিয়ে ফেলতেন ব্যবসায়ীরা। পথচারীদের জিম্মি করে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ছিল নিয়মিত। সেই সড়কের ভাতার মারি রেলক্রসিং এলাকায় তৈরি হচ্ছে উচ্চশিক্ষার নতুন ঠিকানা ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।
১ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে গিদারী ইউনিয়নের ‘কিশামত ফলিয়া ফারাজি পাড়া জামে মসজিদ মেরামত’ প্রকল্পে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকার মধ্যে মসজিদ কমিটি পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোলের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনের একটি চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ চালানটিতে প্রাথমিক গণনায় ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। এসব ফোনের আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে