Ajker Patrika

নাটোর-পাবনা মহাসড়কের এক পাশ বন্ধ করে স্মরণসভায় হুইপ

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 
নাটোর-পাবনা মহাসড়কের এক পাশ বন্ধ করে স্মরণসভায় হুইপ
নাটোর-পাবনা মহাসড়কের এক পাশে মঞ্চ তৈরি করে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের বড়াইগ্রামে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহ নূর বাবুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের এক পাশ বন্ধ করে মঞ্চ ও চেয়ার বসানো হয়। আজ শনিবার বিকেলে বনপাড়া বাজারের বাবু চত্বরে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

অনুষ্ঠান চলাকালে দেখা যায়, মহাসড়কের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে মঞ্চ তৈরি করে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দিচ্ছেন। মহাসড়কে পাতা চেয়ারে বসে কর্মীরা বক্তব্য শুনছেন। অনুষ্ঠানস্থলের সামনে নেতা-কর্মীদের ভিড়।

এতে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একাংশ বন্ধ থাকায় মহাসড়কের পূর্ব পাশ দিয়ে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন যাত্রী ও পথচারী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী সংসদ সদস্য হওয়ার পর একই জায়গায় মহাসড়ক বন্ধ করে অনুষ্ঠান করতেন। এখন বিএনপিও একই কাজ করছে।

জেলা বিএনপির সদস্য ও বনপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ এম. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর, বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচি, সাইফুল ইসলাম আফতাব, সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট শরিফুল হক মুক্তা, এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু ও মুস্তাফিজুর রহমান পারভেল।

ুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার বিচার প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে হবে। এই বিচার কোনোভাবেই থামানো যাবে না। আমি যদি বেঁচে থাকি, বাবু হত্যার বিচার হবেই।’

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আরও বলেন, ‘সত্য উন্মোচনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সেদিন যদি সাংবাদিকরা সাহসী ভূমিকা নিয়ে বাবুর ওপর হামলার ঘটনা ভিডিও করা ও ছবি না তুলতেন, তাহলে আজ সেই সত্য চাপা পড়ে যেত। কারণ, বাবু হত্যার পরের দিনই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বাবু খুন হয়েছেন। কিন্তু যখন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বাবু হত্যার দৃশ্য প্রকাশ পায়, তখন তিনি চুপ হতে বাধ্য হন।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ‘যেহেতু জায়গাটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান, সে কারণে এখানে স্মরণসভা করা হয়েছে। আমাদের অন্যান্য অনুষ্ঠান বাইরে করা হয়। জনগণের কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে, আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মহাসড়ক বন্ধ ছিল না। এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করেছে। এতে কোনো সমস্যা হয়নি।’

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বনপাড়া বাজারে বিএনপির মিছিলে হামলার শিকার হন সানাউল্লাহ নূর বাবু। ওই হামলায় তিনি নিহত হন। পরদিন তাঁর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

পরে আদালতে সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে আরও ১৮ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫ জনে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২১ সালে মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নিহতের স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত