Ajker Patrika

নাটোরের বড়াইগ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ১৬

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 
নাটোরের বড়াইগ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ১৬
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সংঘাতে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার গ্রামবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের বড়াইগ্রামে কিশোরদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে বড়দের মধ্যে। একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শিবপুর বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক, বনপাড়া হাইওয়ে থানার পরিদর্শক এবং র‌্যাব ঘটনাস্থলে যান।

আহতদের মধ্যে শিবপুর গ্রামের ওয়াজ প্রামাণিককে (৭০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মে এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবিরের সঙ্গে শিবপুরের কয়েক কিশোরের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে শুক্রবার আবির ও তার স্বজনরা শিবপুর গ্রামের সজীবকে মারধর করেন। এ সময় সেখানে থাকা গড়মাটি গ্রামের ব্যবসায়ী আবু হানিফকেও মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গড়মাটি কলোনি থেকে আবু হানিফের স্বজনরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবপুর বাজারে যান। সেখানে গোপালপুর কলোনি ও শিবপুরের লোকজনের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।

আজ সকালে গোপালপুর, শিবপুর ও পাশের নারায়ণপুর গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিবপুর বাজারে অবস্থান নেন। পরে তারা গড়মাটি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে, ভ্যানচালক নিশাত রহমানকে (৩০) পিটিয়ে আহত করে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির লোকজনও সশস্ত্র অবস্থায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় শিবপুর গ্রামের মনির মাস্টারের ছেলে মাহিম হোসেনকে (১৬) মারধর করা হয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বড়াইগ্রাম সার্কেল শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মিমাংসা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে। তারা আর সংঘাতে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত