Ajker Patrika

রায়পুরায় ফের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ আরও এক যুবকের মৃত্যু

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি 
রায়পুরায় ফের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ আরও এক যুবকের মৃত্যু
রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে দুই পক্ষের। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত দুই যুবক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহত বুলবুল (৩৫) নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে। তিনি আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। আজ সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন অনিক প্রধান (২০)। তিনি দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা এলাকাছাড়া ছিলেন। আজ ভোরে স্পিডবোটে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তাঁরা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সবার পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় দিনভর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত মামুনও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই সংঘর্ষের জের ধরে আলাল গ্রুপের লোকজন এলাকায় ওঠাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকাছাড়া। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশি তৎপরতায় অপরাধীরা পালিয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারিনি।’

রাত ৮টা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং থানায় মামলা হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত