Ajker Patrika

নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ফল-সবজির হাট, প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার যানজট

হারুনূর রশিদ, রায়পুরা (নরসিংদী)
নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ফল-সবজির হাট, প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার যানজট
নরসিংদীর রায়পুরার মরজাল সমতা বাজার বাসস্ট্যান্ডের মহাসড়কের ওপরই প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ফলের হাট বসে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন বসা ফল ও সবজির হাটকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে পূর্বাঞ্চলগামী লাখো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে মরজাল সমতা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, মহাসড়কের ওপরই লটকন, বিভিন্ন মৌসুমি ফল এবং বারৈচা এলাকায় সবজির বিশাল হাট বসেছে। শত শত ভ্যান, সাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কের দুই পাশে এলোমেলো দাঁড়িয়ে আছে। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে আধা কিলোমিটারের বেশি এলাকা কার্যত বাজারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মরজাল, চৈতন্য ও কামারটেক এলাকায় ফলের হাট বসে। এ ছাড়া বারৈচা, গোকুলনগর ও জঙ্গি-শিবপুর এলাকায় সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে সবজির হাট অনুষ্ঠিত হয়। এসব হাটকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারেরা এসব এলাকা থেকে ফল ও সবজি কিনে ট্রাক ও পিকআপে করে নিয়ে যান। মহাসড়কের ওপর হাট বসানো, অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচলের কারণে যানজট তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলেও কার্যকর তদারকি ও দৃশ্যমান পুলিশি ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা মহাসড়কের ওপর বেচাকেনা করেন। তাঁদের দাবি, জঙ্গি-শিবপুর, বারৈচা ও মরজাল বাজারের ভেতরের অবকাঠামোগত সংকট দূর করা গেলে মহাসড়কে হাট বসানোর প্রয়োজন হবে না।

যানজটে আটকে পড়া ঢাকাগামী বাসচালক রফিকুল হক বলেন, ‘প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে ছিলাম। ঢাকার যানজটের মতো এখানেও ভয়াবহ অবস্থা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা যেতে ৮-৯ ঘণ্টা লেগে যায়। পুলিশের কোনো কর্মতৎপরতা দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে মহাসড়কে ফাঁকা স্থানে হাইওয়ে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে নানান অজুহাতে হয়রানি করে অনৈতিক টাকা দাবি করে। অথচ এই যানজট নিরসনের বিষয়ে তাদের নজর নেই বললেই চলে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

অ্যাম্বুলেন্সচালক সফিক বলেন, ‘যানজটের কারণে আধা ঘণ্টা রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অনেক সময় এখানকার যানজটে বেশ কয়েকজন রোগীও মারা গেছে।’

সিলেটগামী চালক সামসু মিয়া বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ধরে মরজালে আটকে আছি। এটা নিত্যদিনের ঘটনা। রাস্তা থেকে বাজার সরিয়ে নিলে সাধারণ মানুষ ও চালকদের দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে।’

মরজাল সমতা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম শুক্কুর বলেন, ‘বাজারের জায়গা সংকটের কারণে মহাসড়কের ওপর হাট বসছে, যা অবৈধ। ভবিষ্যতে বাজার স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। আমরা নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে যানজট নিরসনের চেষ্টা করি। হাইওয়ে পুলিশের আরও সক্রিয় সহযোগিতা পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা হাটগুলো সরানোর জন্য বাজার কমিটির সঙ্গে কথা চলছে। একটিই টহল টিম কাজ করে থাকে। যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত